নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেছেন, আস্থার সংকট দূর করতে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশকে কাজ করতে হবে। পুলিশকে যে মানুষ ভয় পায় সেই ভয়টা পুলিশকেই দূর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, জন অংশীদারত্বমূলক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার কাজ চলছে।
শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে ‘জননিরাপত্তা বিধানে পুলিশ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে।
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, গণমাধ্যম ও পুলিশের সম্পর্কের মধ্যে যতই টানাপোড়েন থাকুক না কেন; অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধ উদঘাটন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরস্পরের সহযোগিতা জরুরি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশিষ্টজনরা বলেন, আইনের প্রয়োগ ও মানার ক্ষেত্রে সবাইকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সেই সঙ্গে মানসিকতায় আনতে হবে বড় ধরণের পরিবর্তন।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, যতো বেশি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে না, যতো বেশি ওসি সাহেব এমপি সাহেবের কাজের লোকের মতো ব্যবহৃত হবে না। পুলিশকে রাজনীতিমুক্ত হতে হবে এবং একটা নিরোপেক্ষ ভূমিকায় থাকতে হবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, পুলিশের ভূল-ত্রুটি থাকতে পারে। এজন্য এক চোখা নীতিতে পুলিশকে দেখা ঠিক নয়। কোন ব্যক্তির দায় পুলিশ বাহিনী কখনো নেবে না বলে জানিয়ে দেন তারা।
পুুলিশের আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, আমরা পরিবর্তন চাই, আমরা আপনাদের পরামর্শ চাই। এই পরামর্শে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত হতে চাই। আপনাদের সাথে সুসর্ম্পক রাখতে চাই। আমাদের যে দোষ ত্রুটি আছে সে দোষ ধরিয়ে দিলে আমরা আপনাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুলিশিং করবো।
পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আমরা প্রভাবশালীদের চাপে অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যখন বাধ্য হই; তখন যদি গণমাধ্যমে এই বিষয়গুলো চলে আসে তাহলে আমাদের একটা নৈতিক শক্তি হয়। গণমাধ্যম আমার বিরোধী নয়, গণমাধ্যম আমার পরিপূরক।
জননিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা শহরে বাস করা সকল মানুষের তথ্য পেতে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বৈঠক থেকে।







