সড়ক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং এর কারণে সড়কে প্রতিনিয়ত মানুষ নিহত হওয়ার খবর আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট অনেকের উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এ বিষয়ে চিরন্তন সত্য উচ্চারণ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সড়কে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার জন্য চালকদের বেপরোয়া এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন যান পরিচালনাকে দায়ী করে মেয়র দাবি করেছেন, ‘এই ঢাকা শহরে যারা বাসগুলো চালাচ্ছেন, আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অধিকাংশ চালকদের বয়স ১২ থেকে ১৪ বছরও পেরোয়নি। লাইসেন্সও নেই। ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেরা বেপরোয়াভাবে বাসগুলো চালাচ্ছে। কন্ডাক্টরদের আচরণে বাসের যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয়, আমাদের মা-বোনেরা হয়রানির মুখোমুখি হয়।’ হয়তো বেশিরভাগ বাস ড্রাইভারের বয়স ১৪’র কম নয়, তবে কম বয়সী চালকও আমরা দেখি। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির নিয়ম অনুযায়ী পেশাদার চালকদের ন্যূনতম বয়স ২০ বছর হলেও সেই নিয়মের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আইনের কঠিনতম প্রয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো উপায় নেই। আইনের প্রয়োগ একেবারে যে হচ্ছে না তাও নয়। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। মেয়র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করে বলেছেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনার জন্য নাগরিকদের অসচেতনতাও দায়ী।’ এ বিষয়ে নাগরিকরা আরো সচেতন হবেন বলে আমরা মনে করি। একইসঙ্গে সবাইকে সচেতন করতে সরকারি প্রচারণার পাশাপাশি যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, বিষয়টা শুধু কতিপয় সংস্থা এবং তাদের কর্মকর্তা কর্মচারী নয়, সড়কে চলার ক্ষেত্রে সচেতনতা এবং নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের। দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সবাই সচেষ্ট হলেই সড়ক দুর্ঘটনা প্রায় শূন্যের কোটায় কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।








