দেশের গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ করা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি- বার্ড কুমিল্লার একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। গত ৫৫ বছর প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে দেশের পল্লী উন্নয়নে বিভিন্ন মডেল ও কর্মসূচি উদ্ভাবন করেছে এ প্রতিষ্ঠান।
কুমিল্লা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে ১শ’ ৫৬ একর জমি নিয়ে ১৯৫৯ সালে যাত্রা শুরু করে বার্ড। এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক-এর নেতৃত্ব দেন প্রখ্যাত পল্লী উন্নয়ন গবেষক ডক্টর আখতার হামিদ খান। তার গতিশীল নেতৃত্বে পল্লী উন্নয়নে কুমিল্লা মডেল বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করে।শুরু থেকেই বার্ড গ্রামীণ উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।
বার্ডের পরিচালক, প্রশাসন মিজানুর রহমান বলেন, সেন্টার অব এক্সসিলেন্ট রুলার ডেভেলপমেন্ট হিসেবে আমরা এ বার্ড কে দেখতে চাচ্ছি। মানুষকে একত্রিত করে আমরা তাদের পুঁজি গঠন, তাদের সমস্যা সমাধান করা, গ্রাম উন্নয়নের জন্য প্ল্যান করা সে কাজ গুলো আমরা করতে পারছি।
‘বিভিন্ন বিষয়ের উপরে বিশেষ করে গ্রামীণ উন্নয়ন,নারীদের কর্মসংস্থান, কৃষি উন্নয়ন এগুলোর উপর আমরা গবেষণা করি এবং সাথে সাথে প্রায়োঙ্গিক গবেষণা করি। প্রায়োঙ্গিক গবেষণা হচ্ছে; গবেষণার যে ফলাফল আমরা পাচ্ছি সেটা দিয়ে প্রমাণ করতে চাচ্ছি আমাদের থিওরি সঠিক’, বলেন তিনি।
উন্নত জাতের ডেইরি ফার্ম, মৎস্য চাষ ও ফল বাগানে সমৃদ্ধ বার্ড। এসব বিষয়ে বার্ড থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন অনেকেই।
বার্ড-ডেইরি সহকারী পরিচালক ডাক্তার বিমল চন্দ্র কর্মকার জানান, গ্রামীণ জনগণকে কিভাবে দুগ্ধ খামার করা হয় এবং দুগ্ধ খামারের ব্যবস্থাপনা কিভাবে করা হয়, গাভীকে কিভাবে খবার দেওয়া হয়, দুধ দোহন কিভাবে করা হয় এ সকল বিষয় সর্ম্পকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বার্ডের সাম্প্রতিক উদ্ভাবিত মডেল সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি জাতীয় কর্মসূচি আকারে বাস্তবায়ন করছে সরকার। বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নে প্রশিক্ষণ গবেষণা ও এর প্রয়োগে অর্ধশতাব্দীর বেশী সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে বার্ড।
শুধু একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবেই নয়, দেশের উন্নয়নেও বার্ড রেখে যাচ্ছে অনন্য ভূমিকা।






