এসএসসি পরীক্ষার ফল তুলনামূলকভাবে খারাপ হয়েছে যদিও গত বছরের চেয়ে এবার ১ লাখ ৩৫ হাজার বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। দেশে এবার পরীক্ষায় পাশের হার ৮০.৩৫ শতাংশ। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ শিক্ষার্থী। সংখ্যার বিচারের পাশের হার ও জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে। এছাড়া সারাদেশে সর্বমোট ৯৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি। গতবছর শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫৩টি, সে হিসেবে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০টি বেড়েছে। একইসঙ্গে শতভাগ পাশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২ হাজার ৪৬৮টি কমেছে। এছাড়া গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ফলাফল খারাপ করার ধারাবাহিকতা এবারের ফলাফলেও দেখা গেছে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডসহ বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডে ফলাফল খারাপ হবার এটি অন্যতম প্রধান কারণ। গতবছর এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ অন্যকোনো প্রতিকূলতা ছিল না, কাজেই ওই অবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষায় এই ফলাফলকে শিক্ষার গুণগত মানে বিপর্যয় বলা যেতে পারে বলে আমরা মনে করি। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ সারাদেশে নানান অনিয়মের কথা বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। গণিত ও ইংরেজিতে ফল বিপর্যয়ে কারণ হিসেবে মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাবের কথা বলা হচ্ছে, বিশেষ করে গ্রামের স্কুলগুলোতে। গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কার্যকরভাবে সাহায্য করতে ব্যর্থ হচ্ছেন গ্রামের অনেক শিক্ষক। তবে শিক্ষকদের একতরফা দোষারোপ না করে তাদের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো খেয়াল করে ও শিক্ষকতায় প্রতিভাবান-যোগ্যদের নিয়োগ দিয়ে এ ব্যবস্থা থেকে মুক্তি মিলতে পারে বলে আমাদের ধারণা। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুসারে, এ বছর খাতা দেখার ধরনেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেই পরিবর্তিত ধারার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধরন ও শিক্ষকদের আরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে।সারাদেশের স্কুলগুলোতে শিক্ষকরা কতোটা মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান করে থাকেন, তা খতিয়ে দেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যে শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, সেই শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাহাড়সম নানা সমস্যা সরকারকেই যোগ্য হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।









