চিকিৎসকদের হাতের লেখা খারাপ হওয়া নতুন কিছু নয়। বরং কোনো ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের লেখা সহজে পড়তে পারলেই উল্টো আমরা অবাক হই।
কিন্তু এই প্রচলিত সমস্যাটি আর মেনে নিতে রাজি নন ভারতের উত্তর প্রদেশের এক আদালত। খারাপ হাতের লেখার জন্য তাই ওই আদালতের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের অর্থদণ্ড দিয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি লখনৌ বেঞ্চ বৃহস্পতিবার অপাঠযোগ্য হাতের লেখার দায়ে ৩ জন চিকিৎসককে পৃথকভাবে ৫ হাজার রুপি করে অর্থ জরিমানা করেছেন।
ওই বেঞ্চে গত সপ্তাহে তিনটি আলাদা ফৌজদারি মামলা শুনানির জন্য উঠেছিল। মামলাগুলোতে ভুক্তভোগীদের আঘাতজনিত তথ্যের মেডিক্যাল রিপোর্ট যথাক্রমে সীতাপুর, উন্নাও এবং গোন্ডা জেলার হাসপাতাল থেকে ইস্যু করে আদালতে জমা দেয়া হয়েছিল।
কিন্তু প্রতিবেদনগুলো কোনোভাবেই পড়া যাচ্ছিল না। কেননা যে চিকিৎসকরা সেগুলো লিখেছিলেন তাদের হাতের লেখা ‘খুবই খারাপ’ ছিল।
ওই বেঞ্চ একে আদালতের কর্মকাণ্ডে বাধা হিসেবে বিবেচনা করে ওই তিন চিকিৎসককে শুনানিতে হাজির হতে সমন জারি করেন।
উন্নাওয়ের ডা. টিপি জয়সোয়াল, সীতাপুরের ডা. পিকে গোয়েল এবং গোন্ডার ডা. আশীষ সাক্সেনা আদালতে
উপস্থিত হলে বিচারপতি অজয় লাম্বা এবং বিচারপতি সঞ্জয় হারকাউলির বেঞ্চ তাদেরকে খারাপ হাতের লেখার জন্য তিরস্কার করেন এবং প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে ৫ হাজার রুপি করে জরিমানার অর্থ আদালতের গ্রন্থাগারে জমা দিতে নির্দেশ দেন।
চিকিৎসকরা আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা থাকার কারণে প্রেসক্রিপশনে হাতের লেখা অপাঠ্য হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু আদালত তাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে মুখ্য স্বরাষ্ট্র সচিব, মুখ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সচিব এবং চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন যেন ভবিষ্যতে এসব মেডিক্যাল রিপোর্ট সহজ ভাষায় ও বোধগম্য হাতের লেখায় লিখে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে কম্পিউটারে টাইপ করার পরামর্শও দেয়া হয় আদালতের পক্ষ থেকে।









