কেমন ছিল নেপালে জামালদের সারাদিনের পরিস্থিতি

নেপালে বাংলাদেশ দল
সরকারের দুর্নীতি, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেয়ায় আন্দোলনে উত্তাল নেপাল। বিক্ষোভের প্রভাবে বতিল করা হয়েছে নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচেটি। অস্বাভাবিক পরিস্থিতে কেমন কেটেছিল জামাল ভূঁইয়াদের। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন দলের ম্যানেজার আমের খান।
সোমবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে আমের বলেছেন, ‘সকালে থেকে আমরা যখন শুনতে পারলাম এখানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে, তখনও আমরা বুজতে পারিনি যে এতটা তীব্র আন্দোলন হচ্ছে এখানে। আসলে আমরা কোন কিছু আঁচ করতে পারিনি টিম হোটেলে বসে। যখন আমাদের সূচি ছিল ২টা থেকে সোয়া ২টায় হোটেল থেকে বের হব, তখনি নিউজ আসল। যখন আমরা অপেক্ষা করছি তখন আমাদের আনফা (অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোশিয়েসন) থেকে বলা হল যে, আপনারা আপনাদের সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেন, আপনারা পরের ট্রেনিংয়ে যাবেন।’
আশেপাশের অবস্থা জানিয়ে আমের বলেন, ‘স্টেডিয়ামে বা এর আশেপাশে কিছু হচ্ছিল না, এখানে রাস্তা ঘাট পরিষ্কার ছিল। ঠিক তার পরেই আমরা শুনতে পেলাম, এ এলাকাসহ আশেপাশে কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সে কারফিউ জারি করার পর আমরা তখন বললাম যে আমাদের পুলিশ স্কোয়াড কোথায়, পুলিশ স্কোয়াড ছাড়া তো আমরা যেতে পারবো না। তারা বারবার আমাদের বলছিল ৪টায় আমাদের ট্রেনিং, ৪টায় আমাদের যেতে বলেছে।’
নিরাপত্তার বিষয় আমের খান বলেছেন, ‘আমি শেষ পর্যন্ত বলেছি পুলিশ স্কোয়াড ছাড়া যাবো না। তখন নেপাল দলও আমাদের সাথে ছিল, তারা ট্রেনিংয়ের জন্য গিয়ে আবার ফিরে এসেছে। যখন তারা ফিরে এসেছে তখন তো আমরাও দেখলাম যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।’
মঙ্গলবার দেশে ফিরবেন জামালরা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম চ্যানেল আই অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী কালকে যে ফ্লাইটটি অ্যাভেইলেবল থাকবে ওই ফ্লাইটেই দেশের উদ্দেশ্যে রউনা হবে বাংলাদেশ দল।
আমের জানিয়েছেন বাফুফে তাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করবে, ‘আমি যখন আমাদের দূতাবাস এবং বাফুফের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বললাম, তখন আমি প্রথম নিশ্চিত করেছি আমাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে। যদি এমন হয় যে নিরাপত্তার মাধ্যমে তারা একটা ক্লোজ ডোর খেলার ব্যবস্থা করে সেখানে আমাদের যাওয়া ঠিক হবে না। আমি কৃতজ্ঞ সভাপতির কাছে, আমাকে সভাপতি বলেছে যে, যেভাবে আমার নিরাপত্তা প্রয়োজন হয় সেভাবে ১০০ শতাংশ যেন হয়।’
কাঠমাণ্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় পৌনে ৬টায় দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে নামার কথা ছিল বাংলাদেশ ও নেপালের। নেপালের আমন পরিস্থিতি বাতিল করা হয়েছে ম্যাচ। আমের বললেন, ‘আমি যখন দেখলাম যে সংসদ ভেঙে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করছে, সেখানে একটা স্টেডিয়ামে ক্লোজ ডোরে ফুটবল খেলা কখনো সম্ভব না। যাই হোক আমি সভাপতিকে ধন্যবাদ জানিয়েছি সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নেয়াতে। আমরা আনফাকে বলেছি আমাদের এভাবে খেলা সম্ভব না, তোমরা এ খেলাটা বাদ দাও। আর তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পেরে ম্যাচটি বাতিল করেছে।’
গত শুক্রবার দেশটির সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে দেয় নেপাল সরকার। এর সাথে যোগ হয় সরকারের দুর্নীতির বিপক্ষে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ। সব মিলিয়ে সোমবার রাজপথে নেমে আসার ঘোষণা দিয়েছিল তারা। ঘোষণা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামে। নিউ বানেশ্বরের পার্লামেন্ট ভবনের এলাকাসহ কাঠমান্ডুর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায়-দফায় সংঘর্ষ চলছে। নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমাণ্ডু পোস্টের সবশেষ খবর অনুযায়ী, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হয়েছেন।






