ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট জয়, সবশেষ শ্রীলঙ্কায় গিয়ে নিজেদের শততম টেস্টে জয়। নিউজিল্যান্ড ও ভারতের মাটিতে পঞ্চম দিন পর্যন্ত লড়াই। নিকট অতীতের এসব চিত্র বলে দেয় টেস্টেও দিন বদলের কথা। টেস্ট দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক মনে করেন অন্যান্য ফরম্যাটের চেয়ে টেস্টেই এখন বাংলাদেশের জয়ের সুযোগ বেশি।
সামনে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। মুমিনুলের বিশ্বাস, দুটি ম্যাচেই জয় পাবে বাংলাদেশ। যাদের সঙ্গে এখনও টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি সেই অজি-বধের আত্মবিশ্বাস কীভাবে পান মুমিনুল? চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে তার ব্যাখ্যাও দিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
মোটাদাগে টেস্ট দলের মানসিকতা বদলকেই সামনে আনছেন তিনি। জানালেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে হারই তাতিয়ে দিয়েছিল গোটা দলকে। কলম্বো (বাংলাদেশের শতততম টেস্ট) টেস্টের আগে দলের সকল খেলোয়াড়রা বসেন মিটিংয়ে। নিজেরাই নিজেদের উজ্জীবিত করেন।
‘টেস্ট দলের ক্রিকেটারদের মানসিকতা বদলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট হারের পর। ওখানে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে একটি মিটিংয়ের পর। সবার মানসিকতায় অনেক পরিবর্তন আসে। এর পেছনে টনিক হিসেবে কাজ করে গলের পরাজয়। ওই একটা হারই সব খেলোয়াড় সিনিয়র-জুনিয়রদের একত্রিত করে। ওই মিটিংটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। মিটিং হওয়াতে সবাই বুঝতে পারে কীভাবে খেলতে হবে। কীভাবে সবাই অবদান রাখতে পারে।’

খেলোয়াড়দের মাঝে ইতিবাচক মনোভাব তৈরির ফলশ্রুতিতেই ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বপ্ন দেখছেন মুমিনুল। সেই সঙ্গে পেছনের কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন এই ক্রিকেটার, ‘নিউজিল্যান্ড ও ভারতের সঙ্গে আমরা লড়াই করেছি। তার আগে ইংল্যান্ডকে হারালাম, শ্রীলঙ্কাকে হারালাম। আগের অবস্থা থেকে আমরা বের হয়ে এসেছি। এখন টেস্ট খেললেই জেতার সুযোগ বেশি। টেস্ট টিম এখন আগের চেয়ে অনেক পরিণত। সবাই সবার খেলাটা বোঝে।’
নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা কাটিয়ে ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ সফরে আসছে অস্ট্রেলিয়া। ২২-২৩ আগস্ট ফতুল্লায় প্রস্তুতি ম্যাচ। ২৭-৩১ আগস্ট মিরপুরে প্রথম টেস্ট আর দ্বিতীয় টেস্ট ৪-৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে। লড়াইয়ে নামার জন্য স্বাগতিক দলের প্রস্তুতি শুরু হবে ১০ জুলাই। শুরুতেই ফিটনেস ট্রেনিং। মুমিনুল অবশ্য তার আগে শুরু করবেন তার প্রস্তুতি। ঈদের পর পরই ঢাকায় এসে নিজ উদ্যোগে অনুশীলন করবেন। তার আগে বৃহস্পতিবার ব্যাংকক যাচ্ছেন গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসা করাতে। ঈদের আগেই দেশে ফেরার ইচ্ছা তার।
শেষ দুটি টেস্টে বড় রান করতে পারেননি মুমিনুল। যে কারণে বাংলাদেশের শততম টেস্ট ম্যাচটি খেলার সুযোগ হয়নি তার। অস্ট্রেলিয়া সিরিজেই রানে ফিরতে চান তিনি, ‘দুটি টেস্টে ইনিংস বড় করতে পারিনি। টেস্টে মনে হয় এই প্রথম খারাপ খেলেছি। চেষ্টা করবো যত তাড়াতাড়ি ওভারকাম করা যায়। সামনে অনেক খেলা ওভারকাম করতেই হবে।’
প্রিমিয়ার লিগে দারুণ শুরু করেছিলেন মুমিনুল। শেষটা অবশ্য মনের মতো হয়নি। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে ১৬ ম্যাচে এক সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে করেছেন ৫৮৪ রান। গড় ৩৮.৯৩। নামের পাশে ৮০০ রান দেখতে পারলে পুরোপুরি সন্তুষ্ট থাকতেন বলে জানালেন। তবে দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সব আক্ষেপ উবে গেছে।

‘টিমের রেজাল্ট পাওয়া বড় জিনিস। দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এতে আমি খুব খুশি। নিজের পারফরম্যান্স বিচার করলে আরও দুই-একটা সেঞ্চুরি হলে ভালো হতো। এবার যেমন উইকেট ছিল তাতে ৮০০ রান করতে পারলে নিজের কাছে খুব ভালো লাগত।’
প্রিমিয়ার লিগে দুই মৌসুম ধরে গাজীর ডেরায় মুমিনুল। দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন লিগের সময় মুমিনুলের ব্যাটিংয়ে উন্নতির জন্য আলাদা কিছু কাজ করেন। কীভাবে খেলতে হবে সেটি বাতলে দেন। তার দেখানো পথে হেঁটে মুমিনুল যদি রান না পায় তাতেও ক্ষতি নেই, এমন মনোভাব নিয়েই কাজ করেন বিকেএসপির সাবেক এই কোচ।
গতবার টেকনিক্যাল কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন সালাউদ্দিন। এবার হয়েছে ট্যাকটিস নিয়ে। এবারের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুমিনুল বলেন, ‘টেকনিক্যাল জিনিস নিয়ে বেশি কাজ করলে ট্যাকটিক্যাল ব্যাপারগুলো মাথায় থাকে না। এবার চেষ্টা করেছি ট্যাকটিক্যাল জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করার। বিষয়গুলো একটু ভিন্ন। বোলারের স্ট্যান্স, প্ল্যান নিয়ে করা, কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে খেলবো। তারপর চাপের মুখে কীভাবে হ্যান্ডেল করবো, এসব।’









