জঙ্গি বিরোধী একটি ব্যঙ্গচিত্র সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করায় জর্দানের লেখক নাহিদ হাটটারকে দেশটির বিচার কার্যালয়ের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
প্রকাশিত কার্টুনটিতে একজন জঙ্গিকে বেহেস্তে হুরদের নিয়ে মৌজে মত্ত এবং ঈশ্বরের কাছে আরও ওয়াইন (মদ) এবং বাদাম চাওয়ার ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়।
এই লেখকের হত্যাকারীরা ইসলাম ধর্মকে সহিংসতার ধর্ম হিসেবেই প্রচারে ব্যস্ত বলে মনে করেন লেখক-কলামিস্ট সেজান মাহমুদ।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে সেজান লিখেছেন,‘ এখানে যারা ধর্মীয় অনুভূতিপ্রবণ তাঁদের খুশি হবার কথা কারণ, একজন জঙ্গি যে ইসলাম ধর্মকে উগ্রভাবে ইন্টারপ্রিট করে এবং ইসলাম ধর্মকে পৃথিবীর সবচেয়ে স্থূল ধর্ম হিসাবে প্রমাণ করতে চায় তার বেহেস্ত সম্পর্কে ধারণাকে ব্যাঙ্গ করা হয়েছে। বেহেস্ত মানেই তো হুর আর মদ আর যৌনতা না। তাহলে এই লেখক কে হত্যা করা হলো কেন?
ছবিতে ঈশ্বর বা খোদা কে দেখানো হয়েছে এ জন্যে? এটা তো সিম্বোলিক বা রূপক।হলিউডে তৈরি হওয়া তেরটা সিনেমা আমি দেখেছি যার মধ্যে “গড” কে ক্যারাক্টার হিসাবে দেখানো হয় এবং অভিনেতা-নেত্রীরা তাতে অভিনয় করেছেন। কয়েকটার নাম বলি- ব্রুস অলমাইটি, প্রিন্স অব ইজিপ্ট, অলমোস্ট এন এঞ্জেল, ডগমা, দ্য বাইবেল, এরকম আরও অনেক সিনেমা। কই কোন খ্রিশ্চিয়ান বা ইহুদী তো অভিনেতা, পরিচালক বা কাউকে গুলি করতে আসলো না?’
এই অসহনশীলতা মুসলমানদের মধ্যেই একমাত্র প্রকট। কথাটা শুদ্ধ করে বলি। আজ থেকে দু’শ বা তিন’শ বছর আগে এরকম ঘটনা ঘটিয়েছে খ্রিশ্চিয়ানেরা। এখন এরা অনেক সহনশীল। কিন্তু মুসলমানেরা নয়। ধর্ম কিন্তু সকল সহনশীলতার সবচেয়ে ওপরে থাকার কথা। আমি আগেও বলেছি বহুবার, এইসব উগ্রপন্থীরাই ধর্মের প্রধান শত্রু। এরাই প্রমাণ করবে উগ্রতা দিয়ে ধর্মের অস্তিত্ব বিপন্ন করা ছাড়া এরা আর কোন উপকার করবে না। অতএব যারা ধর্মের কল্যাণ চান তাঁদের উচিত এইসব জঙ্গি উগ্রপন্থীদের প্রতিহত করা।’









