সরকারি নির্দেশনায় বহুল আলোচিত ইস্টিশন ব্লগ বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি।
ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ইস্টিশনের মতো ব্লগগুলোর অবদানের কথা স্মরণ করে
সরকারি এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা।
বিশিষ্ট আইনজীবী এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট রাজেশ পাল এর প্রতিক্রিয়ায় তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন: সরকারি নির্দেশে বিটিআরসি ইস্টিশন ব্লগে বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। গতরাত থেকেই অনেকেই আর প্রবেশ করতে পারছেন না ওয়েবসাইট টিতে। একটু আগে নুরুন্নবী দুলাল ভাইয়ের পোস্ট থেকে ব্যাপারটি জানতে পেরে নিজেই প্রবেশে করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই।
ইস্টিশন ছিলো আমার প্রাণের কমিউনিটি ব্লগ। এর প্রবেশাধিকার বন্ধের সাথে সাথে গত দুটো বছর ধরে আমার রাত জেগে লেখা এতোগুলো ব্লগ ও প্রকারন্তরে হারিয়ে গেলো। কারণ মানুষ যদি পড়তেই না পারে , তবু আর থেকেই বা কি মূল্য?
সেইসাথে হারিয়ে গেছে আমার অসংখ্য সহ ব্লগার বন্ধুদের এতোদিনের অনেক শ্রম আর মেধার সন্নিবেশিত অনেক কস্টের লেখাগুলো। এই ব্লগটিতে আমরা যারা যারা লিখতাম , প্রত্যেকের কাছেই এটি এক চরম দুঃসংবাদ। যেন সকল সাধের সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে গেল একটি মাত্র আদেশে।
ফেসবুকের স্বল্প পরিসরে না বলা কথাগুলো বিনি সুতোর মালার মতো গেথেছিলাম অনেকেই মনের মাধুরী মিশিয়ে। আর আজ সেই মালা ছিড়ে দিয়ে দেয়া হলো জলাঞ্জলি। আমাদের মতো অপদার্থদের লেখার সূযোগ করে দিয়েছিল ইস্টিশন। হয়ে উঠেছিল রাইটিং প্লাটফর্ম। ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিরোধ থাকলেও অন্তত সামুর মতো স্বীকার হতে হয়নি অযাচিত ব্যক্তি আক্রমণের্। বা সইতে হয়নি মডারেটরদের বৈমাত্রেয় আচরণ। বরং পেয়েছি পূর্ণ সহোযোগীতা। ফলে ইস্টিশন হয়ে উঠেছিল একটি পরিবারের মতো।
অনলাইনে চরম সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো অসংখ্য ওয়েবসাইট আর পেইজ টিকে আছে বহাল তবিয়তেই। সমানে দিয়ে যাচ্ছে একের পর এক ধ্বংসযজ্ঞের উস্কানি। কিন্তু সেসব বন্ধ না করে , বন্ধ করে দেয়া হলো মুক্তচিন্তার আর মুক্তমতের মুক্তমঞ্চ ব্লগটিকে। ব্যক্তিগত ভাবে আমার জন্য এটি অনেক বড় একটি আঘাত। আমার মুক্তিযুদ্ধ আর ইতিহাস নিয়ে অনেক গুলো লেখা ছিলো এতে। সব হয়ে গেল অতীতের স্মৃতি।
সরকারি নির্দেশের বিরোধিতা করা সম্ভব নয় , শুধু আকুল আবেদন জানাবো সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি , অবিলম্বে যেন খুলে দেয়া হয় ইস্টিশনের প্রবেশদ্বার্। আবার যেন জমে ওঠে মিলনমেলা।
ইস্টিশন ব্লগের সকল সহ ব্লগার , আর পাঠকদের নিকট ও আবেদন রইলো আমাদের এই ক্ষুদ্র দাবীতে যেন পাশে এসে দাড়ান। আমাদের লেখার অধিকার , বলার অধিকার যেনো এইভাবে কেড়ে নেয়া না হয়।
দ্বাররুদ্ধ করে দিয়ে ভ্রমটাকে রুখি , সত্য বলে তবে আমি কোথা দিয়ে ঢুকি??????????
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি অারা নাসরিন তার মতামত জানাতে গিয়ে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন:
“ঘড়ির কাঁটা মাইপা না চলায় ইস্টিশন’এর রেলগাড়িটার (ব্লগবাড়িটার) বারোটা বাজানোর চেষ্টা হয়েছে।
খামোখাই। পরের লাইনগুলো মনে থাকলে থামানোর চেষ্টা করতেন না —
“যখন ছাড়ে থামেনা রে
বাড়ি জংশন ধরে না রে
জরিমানা হইয়া যাইব
যদি টানো চেন টা!”
শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ লিখেছেন: “আমার ফেবুতালিকায় অনলাইন এ্যাকটিভিস্ট এবং ব্লগারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। বাংলাদেশকে রাজাকারমুক্ত এবং জামাতমুক্ত করবার প্রক্রিয়ায় তাঁদের সদা সোচ্চার মতামত আমাকে অভিভুত করে। হতবাক হয়ে তাঁদের লেখা পড়ি। যুক্তি খন্ডানোর প্রতিভা দেখি। অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে খুঁজে পাই তাঁদের মাঝে।
মুক্তিযুদ্ধের অজানা কথা, শহীদের যুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধার নাম আরো কত কথা জেনেছি তাঁদের থেকে। কত ইতিহাস জেনেছি হিসেব নেই। এসব সদা জাগ্রত যোদ্ধাদের সংখ্যারও হিসেব নেই আমার কাছে।
তাঁদের একাউন্ট রিপোর্ট, ব্লগার এবং এ্যাকটিভিস্ট হত্যা, ব্লগ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার মত বিবিধ বাঁধা যখন দেখতে পাই তখন মনে হয় আমরা শত্রুকে বধ করতে নেমে বন্ধুদের জীবিত অবস্থায় মাটি চাপা দিচ্ছি। শুধুমাত্র নিজেদের ভূল অস্বীকার করবার জন্য।
জয় সত্যের জয়।”









