‘আমরা শ্রমিকের সন্তান হয়ে কী অপরাধ করেছি? বাবা ন্যায্য দাবিতে রাস্তার খোলা আকাশের নিচে অনশন করছে। আমাদের ঘরে খাবারের তেমন কিছুই নেই। গতকাল বই উৎসব ছিল। আমরা স্কুলড্রেসও বানাতে পারি নাই।’
এভাবেই নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেছেন নরসিংদীতে আন্দোলনরত এক পাটকল শ্রমিকের সন্তান। শুধু এই শিক্ষার্থীই নয়, তার মতো অবস্থা আজ অনেকেরই।
বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনের মতো মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন চলছে। টানা অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শ্রমিকরা। এতেও কোনো সমাধান না আসায় এবার দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছে শ্রমিকদের সন্তানরা।
নরসিংদী জুট মিলে কাজ করা এক শ্রমিকের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে বলেন, ‘আমাদের এখানে থাকার কথা ছিল না। আমরা থাকতাম স্কুলে। আমাদের বাবার ন্যায্য দাবি ছিল বেতন আদায়। সেটাও পূরণ হচ্ছে না। আমরা তো বই কিনতে পারছি না।’
‘‘বাবাকে বললে বাবা বলে- কোথায় থেকে কিনে দিব। স্কুলড্রেস দরকার, বই দরকার আমাদের বাবা কিছুই করতে পারছে না আমাদের।’’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সরকার আমার বাবাদের দাবি মেনে নিচ্ছে না। তাই আমরা এই রাজপথে এসেছি। আমরা ঠিকমত খেতে পারছি না। আমর বাবা এখন রাস্তার খোলা আকাশের নিচে থাকে।
আমাদের বাবার ন্যায্য দাবি মজুরি কমিশন। যতক্ষণ পর্যন্ত মেনে নেওয়া না হয় ততদিন পর্যন্ত আমরা বিদ্যালয়ে যাব না এটা আমাদের সকল শিক্ষার্থীদের দাবি।’
৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বাবার মুখে হাসি নাই। বাবা শুধু কাঁদে। কেনো এ রকম হবে, আমরা তো এরকম চাই না। প্রধানমন্ত্রী তো আমাদের এমন আশ্বাস দেয়নি। আমরা চাই আমাদের ন্যায্য দাবিটা মেনে নেওয়া হোক।’
‘‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আমরা। আমাদের লেখাপড়ার সুযোগ থেমে গেছে। আমাদের দাবি মেনে নিতেই হবে। আমাদের তো অন্যায় দাবি ছিল না। আমরা জাতির ভবিষ্যৎ।’’
এরই মধ্যে সাতটি পাটকলের প্রায় ২০ হাজার স্থায়ী শ্রমিক অনশনে অংশ নিয়েছেন। টানা অনশনে প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা শরীরে স্যালাইন নিয়েই স্ব-স্ব মিলের সামনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
শ্রমিকদের দাবি নিয়ে গত ১৫, ২২ ও ২৬ ডিসেম্বর তিন দফা বৈঠক হলেও তাতে কোনো সুফল আসেনি। সর্বশেষ ২৬ ডিসেম্বরের বৈঠকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় ওই দিন ২৯ ডিসেম্বর দুপুর থেকে আবারও অনশন করার ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা। সেই অনুযায়ী শ্রমিকরা অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।










