ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে যোগ্যদের পদায়ন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতসহ চার দাবিতে আমরণ অনশন করছে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতারা।
অনশনের তৃতীয় দিনে নয়জন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দুই জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনস্থলে গিয়ে এই তথ্য জানা যায়।
অসুস্থদের মধ্যে আছেন, ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক রানা হামিদ, সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-সম্পাদক ইমদাদ হোসেন সোহাগ, সাবেক উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক মুরাদ হায়দার টিপু, সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক খন্দকার রবিউল ইসলাম রবি, সাবেক উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সজিব, সাবেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক আনন্দ সাহা পার্থ, সাবেক উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক কৃষ্ণ মজুমদার, সাবেক সহ-সম্পাদক এস এম মামুন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ।
এর মধ্যে সাবেক উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ হায়দার টিপু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশেই স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।
অনশনের বিষয়ে গত কমিটির পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বিষয়ক সম্পাদক ও আন্দোলনের মুখপাত্র রাকিব হোসেন চ্যানেল আই অনলাইন-কে বলেন: আমরা চাই অবিলম্বে আমাদের চারটি দাবি মেনে নেওয়া হোক। দাবি না মানলে জীবন দিয়ে হলেও ছাত্রলীগকে বিতর্কমুক্ত করে যাবে না। অনশন শুরুর পর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কেউ এখনও যোগাযোগ করেনি।
চারটি দাবি হলো- ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ; শূন্য ঘোষিত ১৯টি পদসহ ‘বিতর্কিতদের’ পদবীসহ নাম প্রকাশ; অবস্থান কর্মসূচী পালনকারীদের মধ্যে থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন ও মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার বিচার।’
এর আগে, কমিটি থেকে ‘বিতর্কিত’দের বাদ দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে গত ২৬ মে থেকে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন বিক্ষুব্ধরা। এসব দাবি আদায়ে গত শুক্রবার দুপুর থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন তারা।
সম্মেলনের প্রায় এক বছর পর গত ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই গত কমিটির পদ না পাওয়া নেতারা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ যোগ্যদেরকে বাদ দিয়ে, বিবাহিত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, চাকুরিজীবী, মাদকসেবী ও বিভিন্ন মামলার আসামিদেরকে পদায়ন করা হয়েছে। আন্দোলনের মুখে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটির ১৯টি পদ শূণ্য ঘোষণা করেন। তবে শূন্য পদগুলোর নাম প্রকাশ করেননি।
পরবর্তীতে বিতর্কিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা হলে ২৬ মে ফের অবস্থানে বসেন পদবঞ্চিতরা। এক মাস একদিন পার হলেও দাবি না মানায় আমরণ অনশনে বসেছেন তারা।








