কবুতর পালন, সমিতি আর মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসা—বাইরে থেকে সবই স্বাভাবিক। কিন্তু এসবের আড়ালেই চলছিল ভয়ংকর মাদক কারবার। রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে এমনই একটি মাদক কারবারের আস্তানা উন্মোচন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক বিক্রির ৪৩ লাখের বেশি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চক্রের তিন সদস্যকে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে গেছেন কথিত মাদক গডফাদার ‘কবুতর মমিন’।
শনিবার (২৯ আগস্ট) কড়াইল বস্তিতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের পাঁচটি পৃথক টিম।
ডিএনসি জানায়, দীর্ঘদিনের নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কড়াইল বস্তিতে মাদক কারবারি ‘কবুতর মমিনের’ বসতঘরে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান মজুত করা হয়েছে। পরে তার বসতঘর, কবুতরের দোকান, পরিচালিত সমিতির ঘর এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৬১০ গ্রাম হেরোইন, ২৫৩ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশি মদ এবং ২০০ গ্রাম গাঁজা। পাশাপাশি মাদক বিক্রির নগদ ৪৩ লাখ ৬ হাজার ১৪০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—মো. রানা (৩৮), নরুন্নাহার (৪০) ও মো. আশরাদুল ইসলাম (২৮)। তাদের মধ্যে নরুন্নাহার পলাতক মাদক কারবারি ‘কবুতর মমিনের’ স্ত্রী।
ডিএনসির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নরুন্নাহার জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা কবুতর ব্যবসা ও সমিতির আড়ালে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন। এমনকি মাদক কেনাবেচার অর্থের লেনদেন সম্পন্ন করতে ব্যবহার করা হতো তাদের নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেল।
অর্থাৎ, একদিকে কবুতরের দোকান ও সমিতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল বৈধ ব্যবসার আবরণ, অন্যদিকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চলছিল মাদক বেচাকেনার অর্থের লেনদেন।
ডিএনসি জানায়, অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে মূল হোতা ‘কবুতর মমিন’ পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে একই অভিযানে ঘটনাস্থলে মাদক সেবনরত অবস্থায় আরও চারজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের পাঁচটি দল নিয়ে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান। ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সার্বিক নির্দেশনায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।
এ ঘটনায় গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক মো. ইমদাদুল হক খান বাদী হয়ে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত, ২০২৬) অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ডিএনসি জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে রাজধানীসহ সারাদেশে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।









