রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দস্যুতার প্রস্তুতিকালে ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ ও ‘আই ডোন্ট কেয়ার মোহাম্মদপুর’ গ্রুপের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—রাফাত চকদার, হানিফ হোসেন ওরফে জয় এবং চাঁন মিয়া।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-২-এর সিপিসি কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিম।
র্যাব জানায়, মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে দস্যুতার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রাফাত, জয় ও চাঁন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাবের কাছে তারা স্বীকার করেছে—‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ ও ‘আই ডোন্ট কেয়ার মোহাম্মদপুর’ গ্রুপের সঙ্গে তারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই, দস্যুতা ও মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-২-এর সিপিসি কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিম বলেন, ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের প্রধান আনোয়ারসহ অধিকাংশ সক্রিয় সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রুপের সঙ্গে ইউনুস, রাফাত, জয়, রনি, তুষার আহমেদ, পিকআপ রুবেল, বিগার রুবেল, পানি রুবেল, সাঈদ, শাহীন, মাউরা সোহেল, মাউরা রুবেল, দেলোয়ার ও জীবন বাবুসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, মোহাম্মদপুরে ‘আই ডোন্ট কেয়ার মোহাম্মদপুর’ নামে নতুন একটি গ্রুপ সক্রিয় হওয়ার তথ্যও পেয়েছে র্যাব। প্রাথমিকভাবে এ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে ‘আইডিসি সোহেল’-এর নাম পাওয়া গেছে। দুই গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্যের নামেও মিল রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জিজ্ঞাসাবাদে রাফাত ও জয় আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহার পর মোহাম্মদপুর থানাধীন চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের ১১ নম্বর এলাকায় মো. মকবুল (২০) নামে এক যুবকের আঙুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই যুবক ময়মনসিংহ এলাকায় চলে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার রাফাত চকদারের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় ছিনতাই ও দস্যুতার প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা রয়েছে। আদাবর থানায়ও দস্যুতার একটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত।
হানিফ হোসেন ওরফে জয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মারামারি, হত্যাচেষ্টা, ছিনতাই, দস্যুতার প্রস্তুতি ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। আর চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় দ্রুত বিচার আইন, ছিনতাই, মাদক ও দস্যুতার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মোহাম্মদপুরে সক্রিয় এসব অপরাধী চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে র্যাব-২।









