উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের সদস্য ও ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত এমন ৩২২টি পোশাক কারখানার সংস্কারকাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেইফটি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান ওয়েস্টিন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান অ্যালায়েন্সের কার্যনির্বাহী পরিচালক জিম মরিয়ার্টি।
বছরের প্রথম প্রান্তিকের কারখানা সংস্কার ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের অগ্রগতি তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ সময় কারখানাগুলোর পাঁচ বছর আগের ও বর্তমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়।
জিম মরিয়ার্টি সাংবাদিকদের বলেন, এ যাবত অ্যালায়েন্সভুক্ত ৩২২টি কারখানা পর্যাপ্ত সংস্কার কাজসহ সংশোধনী কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কাজ শেষ করেছে। আর সক্রিয় কারখানাগুলোতে জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি সংস্কারের ৮৪ শতাংশ কাজসহ ৮৮ শতাংশ সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে।
এবছর জুন থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত অ্যালায়েন্স কারখানা তাদের সংশোধনী কর্ম পরিকল্পনায় উল্লেখিত সমস্ত কাজ শেষ করবে বলে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সব মিলিয়ে ২৯০টি কারখানার অবকাঠামোগত রেট্রোফিটিংয়ের (ভবন সংস্কার) প্রয়োজন ছিল, তার মধ্যে ২৬৪টি কারখানা অর্থাৎ ৯১ শতাংশ সম্পূর্ণভাবে রেট্রোফিটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে।
একইভাবে স্প্রিংকলার সিস্টেম স্থাপন করা প্রয়োজন এমন ১৪১টি কারখানার মধ্যে ১১৮টি অর্থাৎ ৮৪ শতাংশ স্থাপনকাজ শেষ করেছে। এটি স্থাপনের ফলে শ্রমিকরা আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বেশি সময় পায় ও অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক অবস্থায় আগুন নেভাতে পারে।
এছাড়া প্রায় সব কারখানাই তাদের পুরোনো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি ফায়ার ডোর স্থাপন করেছে বলেও জানানো হয়।
সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে অ্যালায়েন্স গঠিত হয়। আগামী মে মাসে সেই সময় শেষ হলেও কার্যক্রম গোটাতে বাড়তি ছয় মাস লাগবে বলে জানান জেমস এফ মরিয়ার্টি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের নির্দিষ্ট সংস্থা অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম বুঝে নিতে ব্যর্থ হলে হয়তো আমরাই স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ব তদারকি করার জন্য।
তবে কাযভার হস্তান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, তৈরি পোশাক খাতের শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, আইএলওসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
জেমস এফ মরিয়ার্টি বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমরা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের নিরাপত্তা উন্নয়নে বেশ অগ্রগতি করেছি। আমাদের কারখানা সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’
‘আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম নিরাপত্তা তদারকি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করব। তবে সেই সংস্থাটির কার্যক্রম বিশ্বাসযোগ্য, আস্থাশীল, স্থানীয় অংশীদারের নিকট স্বচ্ছ ও বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে।’








