নেপালে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার তিনদিন পর বড় শঙ্কায় পড়েছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ। চ্যানেল আই অনলাইনে প্রকাশিত এক্সক্লুসিভ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানের বোয়িং-৭৭৭ হিথ্রো বিমান বন্দর থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রার এক ঘণ্টা পর লন্ডনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে পাইলটকে জানানো হয়, বিমানে জঙ্গি ও বোমা থাকতে পারে। উড়োজাহাজটি তখন জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট অতিক্রম করছিল। খবরটি জানার পর শুরু হয় পাইলট এবং ক্রুদের স্নায়ুযুদ্ধ। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পর শেষ পর্যন্ত সিলেটে পৌঁছে উড়োজাহাজটি। সেখানে অবতরণের পর আগে থেকে অবস্থান নেয়া র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী চিরুনী তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন কিছু পায়নি। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন সংশ্লিষ্টরা। এমন একটি ঘটনার কথা শোনার পর অনেকেই চমকে উঠেছেন। কোনো ভাবেই যেন এমন কিছু না ঘটে তার জন্য প্রার্থনা করেছেন অনেকেই। তবে আমরা জেনেছি, জরুরি ওই বার্তা পাওয়ার পর খুব ঠাণ্ডা মাথায় উড়োজাহাজের ফার্স্ট অফিসার এবং চিফ পার্সারের সঙ্গে আলোচনা করে পাইলট সকল ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপদেই অবতরণ করেন। নিশ্চয়ই এটা সহজ বিষয় ছিল না তাদের জন্য। ছিল কঠিন এক যুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন তারা। অবশ্য এই ঘটনা নতুন করে একটি প্রশ্নকে আমাদের সামনে দাঁড় করিয়েছে। যে যুক্তরাজ্য আমাদের দেশ থেকে সরাসরি কার্গো প্লেন চলাচল বন্ধ রেখেছিল, তারা কেন এমন নিশ্চয়তা দিতে পারে না যে তাদের বিমানবন্দর থেকে কোন জঙ্গির বোমাসহ এয়ারক্রাফটে উঠে পড়া সম্ভব না! তারা শঙ্কার কথা জানিয়েছিল মানে তারা তাদের বিমানবন্দরগুলো শতভাগ নিশ্ছিদ্র করতে পারেনি। না হলে তারা কেন শঙ্কার কথা জানালো? শেষ পর্যন্ত খারাপ কিছু ঘটেনি সেজন্য আমরা স্বস্তি পাচ্ছি। তবে, এমন পরিস্থিতি ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া তাদের কোন প্লেনের ক্ষেত্রে ঘটলে তারা তোলপাড় তুলে দিতো। তারা আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতো, আমাদের গোয়েন্দা তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলতো। আমরা তাদের গোয়েন্দা তথ্যে হাসি-তামাশা করছি না। তবে, হিথ্রো থেকে উড্ডয়নের এক ঘণ্টার মাথায় বোমাসহ জঙ্গি থাকতে পারে তথ্য দিয়ে তারা কেন প্লেনটি হিথ্রোতেই ফিরিয়ে নিলো না, কিংবা বিমানের বোয়িংটি কেন সবচেয়ে কাছের এয়ারপোর্টে নেমে পরীক্ষা করাতে পারলো না, সেই প্রশ্ন আমরা রাখছি। আমরা আমাদের ক্রুদের সাহসের প্রশংসা করছি। এবং কোন ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্যতম ফাঁকও যেন না থাকে তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি।







