চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সন্দ্বীপে নৌ যাতায়াতে জনদুর্ভোগ

সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আনাসহ বিগত কয়েক বছরে সন্দ্বীপের ব্যাপক উন্নয়ন দেখা গেলেও মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার একমাত্র নৌপথ যেন প্রাচীন যুগের মতোই রয়ে গেছে। এ নৌপথের এখনো কোনো সুফল মেলেনি। সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার ৭টি ফেরিঘাট থাকলেও সচল রয়েছে কুমিরা-গুপ্তছড়া ফেরিঘাট।

২০১২ সালে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুপাশে দুটি জেটি নির্মাণ করলেও গুপ্তছড়া অংশে কোনো কাজে আসছে না এটি। নির্মাণের ৬ মাসের মধ্যে ভেঙে পড়ে যায় এটি। সাড়ে চার হাজার ফুট দীর্ঘ জেটিটি অবশিষ্ট আছে মাত্র দুই হাজার ফুট।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কুমিরা অংশে থাকা জেটিও ব্যবহার হচ্ছে কেবল জোয়ারের সময়। ফলে দুর্ভোগের যেন শেষ থাকে না সন্দ্বীপের মানুষের। কোমরপানিতে নেমে যেতে হয় যাত্রীদের। এরপর কাদা মাড়িয়ে পাড়ে উঠতে হয়। আবার নৌযানে ওঠার সময়ও একই অবস্থা। শুধু তা-ই নয়, স্টিমার কিংবা লঞ্চে উঠতে নামতে হলে অবৈধ লালবোট ব্যবহার করতে হয়। যার কারণে ২০১৭ সালে ২ এপ্রিল হারাতে হয়েছে ১৮টি তাজা প্রাণ। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে হয় দ্বীপের মানুষদের।

বিজ্ঞাপন

সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া অংশে যাত্রী ওঠানামার জন্য আছে দুইটি জেটি। ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জেটির একটি অংশ তলিয়ে গেছে নদীগর্ভে। নির্মাণের ছয় মাসের মাথায় ভেঙে গেছে এ জেটির সামনের অংশ। এ জন্য এ জেটিতে ওঠানামার কাজও সারতে পারছেন না যাত্রীরা। পুরোনো এ জেটির ৫০০ গজের মধ্যেই হয়েছে নতুন আরেকটি জেটি। এ জেটি থেকেও সেবা পাচ্ছে না জনগণ। ভাটা থাকলে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়েই এই জেটিতে উঠতে হয় নারী-পুরুষ সবাইকে। ওঠানামার এ কষ্ট পোহাতে হচ্ছে বৃদ্ধ নারী ও শিশুদেরও।

সন্দ্বীপ উপজেলার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান মিতাও বললেন সেসব কথাই।

সন্দ্বীপের সঙ্গে নৌ যোগাযোগের ছয়টি রুট আছে চট্টগ্রাম শহরের। সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আছে এ রুটগুলো। যোগাযোগ সুবিধার কারণে যাত্রীদের পছন্দের শীর্ষে আছে কুমিরা-গুপ্তছড়া রুট। এ রুট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষ যাতায়াত করে। এখান থেকে প্রতিদিন লাখ টাকা টোল আদায় করে জেলা পরিষদ। এই টোলের একটি নির্ধারিত অংশ তারা প্রদান করে বিআইডব্লিউটিএকে। সরকারি এ দুটি সংস্থা সমঝোতার ভিত্তিতে ঘাট পরিচালনা করলেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মনোযোগী ছিল না কেউই।

স্থানীয় এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার চেষ্টায় বিআইডব্লিউটিএ মাস কয়েক আগে একটি ড্রেজার পাঠায় সন্দ্বীপে। এটি সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া অংশে কিছুটা ড্রেজিং করে নতুন জেটির সঙ্গে নৌযান নোঙর করানোর ব্যবস্থা করে। কিন্তু স্থায়ীভাবে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা না হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে এ সার্ভিস। বিআইডব্লিউটিএ ঘাটের মালিকানা না পেলে ড্রেজিং করতে উৎসাহী নয়। গুপ্তছড়া অংশ থেকে তাই এখন ফিরে আসবে তারা। কুমিরা অংশে কিছুদিন ড্রেজিং করে এ ড্রেজার নেওয়া হবে অন্যত্র। কিন্তু নিয়মিত ড্রেজিং না হলে তীরে নৌযান নোঙর করার এ সুবিধা টেকসই হবে না বেশিদিন। অথচ স্থানীয় বাসিন্দারা নৌঘাট সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায়। চায় তারা নিরাপদ নৌযান।

বিজ্ঞাপন