চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকটে ব্যর্থতার কুফল বিশ্বনেতারা কবে বুঝবে

২০১৭ সালে মিয়ানমারের আরাকান থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশে। অত্যন্ত অমানবিকভাবে তাদের মিয়ানমার থেকে বিতাড়ন করে সেখানকার সরকার। বাংলাদেশ মানবিক কারণেই তাদের আশ্রয় দেয়। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা সেই থেকে কক্সবাজরের উখিয়ার ক্যাম্পে আর কিছু সংখ্যক নোয়াখালীর ভাসানচরে আশ্রয় নিয়েছে। শুরু থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পগুলোতে হানাহানি মারামারি মাদক ব্যবসার কারণে পরিবেশ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ালেও হানাহানি থামছেই না।

চ্যানেল আই অনলাইনের সংবাদে জানা যায়, কক্সবাজারের উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সাত জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার ২৩ দিনের মাথায় আজ শুক্রবার ভোররাতে উখিয়া উপজেলা পালংখালী ইউনিয়নের থাইনখালীর বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

আর্মড পুলিশ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প সূত্র জানায়, সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের। কী কারণে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে রোহিঙ্গারা বলছেন, মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি ও ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের মধ্য এ সংঘর্ষ হয়েছে।

এখন পর্যন্ত মুহিবুল্লাহকে খুনের ঘটনায় পুলিশ ৫ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। দুই দফায় ওই পাঁচ রোহিঙ্গাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে উখিয়া থানার পুলিশ। তাঁদের একজন মোহাম্মদ ইলিয়াছ কক্সবাজার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। কিন্তু মুহিবুল্লাহ হত্যার মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এরমধ্যেই আরেকটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটলো।

আমরা মনে করি, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার মাধ্যমে একটি মানবিক কাজ করলেও দিন দিন রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ একটি কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশ্রিত দেশের ক্যাম্পে অবাধে মাদক ব্যবসা এবং অস্ত্র ব্যবসাসহ খুনোখুনি লেগেই আছে ২০১৭ সাল থেকে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হতে হচ্ছে পরিস্থিতি সামাল দিতে। বাংলাদেশে মানবিক কারণে তাদের যে আশ্রয় দেয়া হয়েছে তারা যেন এই দেশের আইন কানুন মেনে সেটার প্রতিদান দেয়। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। আইন শৃঙ্খলার প্রায় অবনতি এখন গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। এজন্য তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তনের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। নাহলে পুরো দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী এই বিষ ফোঁড়ার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে বলেই আমাদের শঙ্কা।

বিজ্ঞাপন