‘মিসির আলী’ চরিত্র থেকে বের হলেন চঞ্চল চৌধুরী। আজ রোববার ‘মিসির আলী’ চরিত্রটি শেষবারের মতো ধারন করেন তিনি। সারা দিন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে। মনোবিজ্ঞান বিভাগে ক্লাস নিয়েছেন। বললেন, ‘এক সময় খুব ইচ্ছা ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হব। বাবাও তা–ই চেয়েছিলেন। আজ আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের সামনে দাঁড়িয়ে ক্লাস নিয়েছি।’
বিকালে যখন কথা হয়, আরও বললেন, ‘আজ মিসির আলী চরিত্রে শেষ শুটিং করেছি। পুরো একটা মাস অন্য এক জগতে বাস করেছি। বলতে পারেন ঘোরের মাঝে ছিলাম। আর কিছুক্ষণ পর আমি আগের চেহারায় ফিরে যাব।’
কীভাবে? চঞ্চল বললেন, ‘পুরো একটা মাস আমি ৫২ থেকে ৬০ বছর বয়সের বৃদ্ধ ছিলাম। পরচুলা নয়, আমার অর্ধেক চুল স্থায়ীভাবে সাদা করেছি। গুলশানে পারলারে ব্যাংকক থেকে আসা এক লোক আমার মাথার ৫০ ভাগ চুল সাদা করে দিয়েছেন। আর এই কাজটি করতে তার সময় লেগেছে ছয় ঘণ্টা! শুটিং শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকে সেভ করিনি। আজ একটু পর সেভ করব, চুল কাটব। “আয়নাবাজি” ছবির জন্য আমাকে যেমন ওজন কমাতে হয়েছে, “দেবী” ছবির জন্য ওজন বাড়াতে হয়েছে। ভুড়ি যেন স্পষ্ট বোঝা যায়, সেই কাজটি করতে হয়েছে।’
হুমায়ূন আহমেদের ‘দেবী’ উপন্যাস নিয়ে তৈরি হচ্ছে চলচ্চিত্র। উপন্যাসের নামেই ছবির নাম ‘দেবী’। এরই মধ্যে এই ছবির জন্য সরকারের অনুদান পেয়েছেন চিত্রনায়িকা জয়া আহসান, তিনি এই ছবির প্রযোজক। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘সি-তে সিনেমা’। পরিচালক অনম বিশ্বাস। ‘দেবী’ ছবিতে ‘রানু’ চরিত্রে অভিনয় করছেন জয়া আহসান, ‘মিসির আলী’ চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী, রানুর স্বামী আনিসের চরিত্রে অনিমেষ আইচ, নীলু চরিত্রে শবনম ফারিয়া আর আহমেদ সাবেরের চরিত্রে ইরেশ যাকের।

উপন্যাসের মিসির আলী তো বইয়ের মাঝে ডুবে থাকেন। আপনি? চঞ্চল বললেন, ‘আমিও ডুবে থেকেছি। মিসির আলীর বাসার শুটিং হয়েছে হাতিরঝিল এলাকায় বেগুনবাড়ি বস্তিতে। ওখানে অনেক টিনের ঘরের মাঝে একটি পুরোনো তিন তলা দালান। এই দালানের ছাদে টিন দিয়ে একটি রুম তৈরি করা হয়। ঠিক হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলী যেমন রুমে থাকেন। এই রুমে গুনে গুনে পাঁচ হাজার বই ছিল।’
জানালেন, ‘দেবী’ ছবির শুটিং হয়েছে ঢাকা, মানিকগঞ্জ আর ধামরাইয়ে।
‘দেবী’ ছবির শুটিংয়ের মাঝে চঞ্চল বাধ্য হয়েছেন আরও কিছু কাজ করতে। বললেন, ‘টিভিতে যে ধারাবাহিকগুলোর প্রচার হচ্ছে, সেগুলোর কাজ না করে উপায় ছিল না। তখন ক্যাপ পড়ে, চুল ঢেকে শুটিং করেছি। আর মিসির আলী চরিত্রের মাঝে এতটাই ডুবে ছিলাম যে, নাটকের শুটিংয়ে তার যথেষ্ট প্রভাব পড়ে যেত। তবে ওই সময় মিসির আলী থেকে যতটা সম্ভব নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছি।’
লুক পরিবর্তন করার পর চঞ্চল চৌধুরীকে দেখে চমকে যায় তার ছেলে। সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখে তার পাশে একজন বৃদ্ধ ঘুমাচ্ছেন। পরে স্কুল থেকে ফিরে ফোন দেয় বাবাকে, ‘দাদু, তুমি কেমন আছো?’
এখন ঈদের নাটকের অনেক কাজ জমে গেছে। চঞ্চল জানালেন, কাল সোমবার থেকেই ঈদের কাজ শুরু করবেন।







