স্ট্রোকের পর দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলীর শারীরিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। চলতি মাসে তাকে ভারতের বেঙ্গালুরুতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে এই যাত্রার আগে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা।
চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে কাকলীর স্বামী ও অভিনেতা প্রাণ রায় বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলছে, কিন্তু কাকলীর উন্নতি খুব একটা হচ্ছে না। তাই ভাবছি, খুব শিগগির ওকে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে মুভ করবো। সেই প্রস্তুতিই চলছে।”
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রাণ রায় জানিয়েছিলেন, স্ট্রোকের কারণে কাকলী হাঁটতে পারছেন না। চার মাসেরও বেশি সময় পরও অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে জানান তিনি।
প্রাণ রায়ের ভাষ্য, “এখনো আগের অবস্থায় আছে। হাঁটতে পারছে না, বাম হাতও মুভ করতে পারছে না। মানে বাম পাশটা এখনো প্যারালাইজড অবস্থায় আছে।”
তবে রাজধানীর মিরপুরে সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি)-তে দীর্ঘদিন থেরাপি নেওয়ার ফলে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
“আগে শুধু শুয়ে থাকতে হতো, বসতেও পারতো না। এখন একটু বসিয়ে রাখলে বসে থাকতে পারে। কিন্তু সাপোর্ট ছাড়া কোনোভাবেই হাঁটতে পারে না। খাওয়াদাওয়াও ঠিকমতো করতে পারছে না। আসলে দিনকে দিন শরীরের অবস্থা খারাপই হচ্ছে।” বলেন অভিনেতা প্রাণ রায়।
এ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার আশায় কাকলীকে ভারতের বেঙ্গালুরুতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রাণ। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বেঙ্গালুরুর মনিপাল হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে এবং মেডিকেল ভিসাও হাতে পেয়েছেন তারা।
তিনি বলেন, “এই মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে কাকলীকে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে যাবো। ওখানকার মনিপাল হাসপাতালে কথা হয়েছে, মেডিকেল ভিসাও পেয়ে গেছি।”
তবে বিদেশে চিকিৎসার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে সামনে এসেছে অর্থের বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রাণ রায় বলেন, “যাওয়ার আগে তো অনেকগুলো টাকার ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে ট্রিটমেন্ট কী হবে, কতদিন লাগবে, কেমন খরচ হবে- কিছুই তো জানি না। তাই বড় একটা অ্যামাউন্ট হাতে নিয়েই যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এতদিন অল্প অল্প করে ম্যানেজ করে চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু এখন বিদেশে নিতে হলে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। সেই চেষ্টাই করছি। সামনে আরও অনেক টাকার প্রয়োজন হবে। সেটা কীভাবে ম্যানেজ হবে জানি না।”
কাকলীর চিকিৎসার জন্য সংগঠন থেকে সহায়তা পেয়েছেন কিনা- এমন প্রশ্নে প্রাণ রায় জানান, অভিনয় শিল্পী সংঘ কিছু সহযোগিতা করলেও নির্মাতাদের সংগঠন থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তা পাননি।
“আমার অভিনয় শিল্পী সংঘ এক ধরনের সহায়তা করেছে। যদিও কাকলী অভিনয়শিল্পী নন, তিনি নির্মাতা। কিন্তু নির্মাতাদের সংগঠন থেকে ওই অর্থে কোনো সহায়তা পাইনি।” বলেন তিনি।

তবে ব্যক্তিগতভাবে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান প্রাণ রায়। তিনি বলেন, “অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করেছেন বলেই এতদূর আসতে পেরেছি। চ্যানেল আইয়ের সাগর ভাইও সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু সামনে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে, সেটার ব্যবস্থা কীভাবে হবে, এখনো বুঝতে পারছি না। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি, দেখি কতদূর কী করতে পারি।”
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ‘উত্তরের সুর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন শাহনেওয়াজ কাকলী। ছবিটি দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি চারটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। পরবর্তীতে তিনি ‘ফ্রম বাংলাদেশ’সহ একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। বর্তমানে তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ফ্রম বাংলাদেশ’-এর কিছু কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

