চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্রিটিশ ৫জিতে হুয়াওয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার ‘পাগলামি’: যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাজ্যের ৫জি নেটওয়ার্ক তৈরিতে হুয়াওয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করা ‘পাগলামি’ হবে বলে ব্রিটিশ সরকারকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জনপ্রিয় স্মার্টফোন ও প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা চীনা প্রতিষ্ঠানটির সহায়তায় কাজ করলে নেটওয়ার্ক ভয়ানক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে বলে মন্তব্য করেছে দেশটি।

একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল সোমবার যুক্তরাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নতুন কিছু সংশ্লিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫জি নেটওয়ার্ক উন্নয়নে হুয়াওয়ের কাছ থেকে ‘নন-কোর’ (অত্যাবশ্যক সরঞ্জামের পরবর্তী পর্যায়ের যন্ত্রাংশ) সরঞ্জাম কেনার ব্যাপারে চলতি মাসেই সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

সেই সরঞ্জামগুলো যেন এই কোম্পানির কাছ থেকে কেনা না হয় সেজন্য সোমবার ব্রিটিশ মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-উপদেষ্টা ম্যাট পটিংগারের নেতৃত্বাধীন মার্কিন কূটনৈতিক দল।

আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ওপর এ নিয়ে চাপ দিচ্ছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসি জানায়, সিনিয়র মর্কিন কর্মকর্তাদের ওই দলটি কারিগরি তথ্যের এমন একটি নথি সোমবারের বৈঠকে উপস্থাপন করেছেন যা ব্রিটিশ গোয়েন্দা টিমের নিজস্ব কারিগরি পরীক্ষার প্রতিবেদনকে ভুল বলে দাবি করছে। ব্রিটিশ প্রতিবেদন অনুসারে, হুয়াওয়ের ৫জি অবকাঠামোতে হুয়াওয়ের প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে না ফেলেই ব্যবহার করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

অবশ্য ওই নথিতে ঠিক কী আছে সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কিছু জানাতে রাজি হয়নি।

২০১৯ সালের ১৬ মে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে হুয়াওয়েসহ আরও ৬৮টি কোম্পানির সঙ্গে প্রযুক্তি এবং যন্ত্রাংশের কেনাবেচা করার ব্যাপারে নিজ দেশের কোম্পানিগুলোর প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বেশ কয়েকবার অন্যান্য দেশগুলোকে সাবধান করে বলেছে, হুয়াওয়ের সঙ্গে এ ধরনের যে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য করলে সেই দেশের সঙ্গে গোয়েন্দা সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।হুয়াওয়ে-যুক্তরাজ্যে ৫জি প্রযুক্তি

ইতোমধ্যে গত জুনে ৫জি সেবা উন্নয়নের জন্য রাশিয়ান টেলিকম কোম্পানির সাথে চুক্তি করে হুয়াওয়ে। এই চুক্তির আওতায় চলতি বছর থেকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ফাইভজি সেবা উন্নয়নে কাজ করে যাবে প্রতিষ্ঠান দুটি।

গত সেপ্টেম্বরে অবশ্য হুয়াওয়ে উল্টো অভিযোগ করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নেটওয়ার্কগুলোতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে সাইবার হামলা চালিয়েছে এবং তাদের কর্মীদের হুমকি দিয়েছে।

অবশ্য ব্রিটিশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ নিয়ে তারা চিন্তিত নন। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রিভিউ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জনসনের ওপর গোয়েন্দা সম্পর্ক নিয়ে চাপ থাকলেও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫ প্রধান অ্যান্ড্রু পার্কার একে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ফিনান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেছেন, ব্রিটেন হুয়াওয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় সম্পর্ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

শেয়ার করুন: