চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জারের পানির ৯৬ শতাংশে ক্ষতিকর উপাদান, মুরগির মাংসে বিপদ!

ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় থাকি-৭

রাজধানীতে বিক্রি হওয়া জারের পানির ৯৬ শতাংশেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। পোলট্রি মুরগির মাংসে আগের মতোই আছে এন্টিবায়োটিক এবং ক্ষতিকর ধাতবের উপস্থিতি। লিপস্টিকের সাথেও ক্ষতিকর কেমিক্যাল খেয়ে ফেলছেন অনেকে।

কম দামে বেশি পানি পাওয়ার কারণে জার ভর্তি পানি জনপ্রিয় রাজধানী জুড়ে। ছোট দোকান থেকে শুরু করে হোটেল রেস্তোরাঁতে ব্যবহার বেড়েছে জারভর্তি পানির।

এর উৎস নিয়ে সন্দেহের কারণে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পুষ্টি বিভাগের গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়ংকর তথ্য। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জারের পানির আড়াইশ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে মাত্র ৪ শতাংশ পানি নিরাপদ পেয়েছে তারা।

পানি ও বোতলের মান দুটোতেই সমস্যা আছে বলে জানিয়েছেন কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পুষ্টি বিভাগের পরিচালক মনিরুল ইসলাম এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রহমান।

পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, ৩৫টি ব্র্য্যান্ডের বোতলজাত পানিতে সমস্যা মেলেনি। তবে এসব বোতল দু’বারের বেশি ব্যবহার না করার পরামর্শ তাদের। সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, স্কুলের শিক্ষার্থীরা যেসব কমদামি ফ্যান্সি পানির বোতল ব্যবহার করে তার বেশিরভাগই নিরাপদ নয়।

জারের পানির মতোই বিপদ সংকেত মিলেছে চিকেনে। কয়েক বছর আগে গবেষণায় দেখা যায়, পোলট্রি খামারে বেড়ে ওঠা মুরগির খাবারে থাকে ক্ষতিকর ধাতব পদার্থ। এসব মুরগির অনাকাঙ্খিত মৃত্যু রোধে যে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়, মুরগির বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে তা রয়ে যায়।

পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কিনা জানতে সাম্প্রতিক ফলোআপ গবেষণায়ও পাওয়া গেছে একই ধরণের ঝুঁকির তথ্য।

এসব দেখতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চালু হলেও জনবল মাত্র ১৬ জন। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪শ’ ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিলেও দু’ কোটি রাজধানীবাসীসহ দেশবাসীর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব সহজ নয় বলে জানান মো. মাহফুজুর রহমান।

ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা রাইস বার্ন তেল বিরতি দিয়ে দিয়ে এবং কম দামের লিপস্টিক ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। ডিম পুরোপুরি সেদ্ধ করে খাওয়ার পরামর্শও তাদের। তবে, পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজিতে।

বিস্তারিত দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে: