শিক্ষা

মিলেনিয়াম ফেলোশিপে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ১৫৬ শিক্ষার্থী, বিশ্ব রেকর্ড

BRAC বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক প্রভাব নেতৃত্বে নতুন উচ্চতায়. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের মিলেনিয়াম ফেলোশিপের জন্য ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ১৫৬ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এ বছর কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা, জলবায়ু, স্বাস্থ্য, জেন্ডার সমতা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে কাজ করবেন। তাদের নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের বাস্তব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবদান রাখবে।

টানা পঞ্চম বছরের মতো ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা এই ফেলোশিপে অংশ নিচ্ছেন। ইউনাইটেড নেশনস একাডেমিক ইমপ্যাক্ট (ইউএনএআই) এবং মিলেনিয়াম ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক (এমসিএন) যৌথভাবে মিলেনিয়াম ফেলোশিপ পরিচালনা করে। এটি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের একটি কর্মসূচি, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ধারণাকে বাস্তব সামাজিক উদ্যোগে রূপ দেওয়ার সুযোগ পান।

এ বছর বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশের ৬ হাজারেরও বেশি ক্যাম্পাস থেকে ৭৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফেলোশিপের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রায় ৩৩০টি ক্যাম্পাসের ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী মিলেনিয়াম ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচিত ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বিভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবেন। এর মধ্যে রয়েছে মানসম্মত শিক্ষা, অসমতা হ্রাস, জলবায়ু কার্যক্রম, শান্তি ও ন্যায়বিচার এবং লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জন্য এবারের অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সাফল্য দেখায় যে শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের সমাজের বাস্তব সমস্যা বুঝতে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, শিক্ষা তখনই সবচেয়ে অর্থবহ হয় যখন তা তরুণদের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ দেয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং সমাজের বাস্তব সমস্যা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব গুণ সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতি বছর মিলেনিয়াম ফেলোশিপে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অংশগ্রহণ বাড়ছে। ২০২১ সালে প্রথমবার ১৪ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে ২২ জন, ২০২৪ সালে ২৬ জন এবং ২০২৫ সালে ৫০ জন এই ফেলোশিপ পান। এবার ১৫৬ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার এবং এমসিএনের সিভিক লার্নিং কাউন্সিলের কো-চেয়ার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড বলেন, মিলেনিয়াম ফেলোশিপ শিক্ষার্থীদের শেখার সঙ্গে সমাজের প্রয়োজনকে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে তারা সমাজের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়ে শ্রেণিকক্ষের বাইরেও ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার সুযোগ পান।

গত ২০ আগস্ট ‘মিলেনিয়াম ফেলোশিপ গ্লোবাল টাউন হল’-এর মাধ্যমে এ বছরের নির্বাচিত ফেলোদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে তারা নিজেদের প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে কাজ করবেন।

বিষয়:বিশ্ব রেকর্ড ব্র‌্যাক ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…