চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোন চাবিতে খুলবে এ তালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা

প্রায় আড়াই বছর আগে রাজধানীর সাতটি বড় কলেজের ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে’র প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেগুলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে সরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। সেই কলেজগুলোর মধ্যে আছে- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।

এসব কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার। আমরা অবাক হয়ে দেখলাম কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই ওই সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হলো। মানে ৪২ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য শিক্ষকসহ যেসব একাডেমিক পরিকাঠামো ছিল, সেগুলো দিয়েই আরো দুই লাখ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হলো।

বিজ্ঞাপন

আর এই চাপে অল্পদিনেই নুয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শুরু হয় বিশৃঙ্খলা, কয়েক মাসের মধ্যেই পথে নামে অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেই থেকে নানা দাবিতে তারা মাঠে ছিল। তাদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ন্তভুক্তির ফলে মাসের পর মাস পরীক্ষা হচ্ছে না, যাওবা পরীক্ষা হয়, তার ফল প্রকাশ হতে দীর্ঘ সময় লাগে এতে সেশনজটসহ বহুমুখী সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এমন কি তাদের সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সেশনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পাস করে চাকরিতে ঢুকে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে গত সপ্তাহেও আন্দোলন করেছে তারা।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এরই মধ্যে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে গত বুধবার থেকে মাঠে নেমেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত তিনদিন ধরে প্রশাসনিক ভবনসহ ক্যাম্পাসের সবগুলো অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা লাগিয়ে দিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে। এ জন্য ক্লাস, পরীক্ষা সবই বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের দাবি, এসব কলেজের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে ধীর গতি দেখা দিয়েছে। এমনকি নিয়মিত পাঠদান এবং ফল প্রকাশেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

তার মানে হলো দুইপক্ষই এখন বিষয়টি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে। বিশেষ করে অধিভুক্তি বাতিলের পক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড়। এর অর্থ খুব সহজে এই সমস্যার সমাধান আশা করা যাচ্ছে না। যদি তাই হয়, নিশ্চিত করেই বলা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই সেশনজটে পড়তে যাচ্ছে। কিন্তু এভাবে তো দিনের পর দিন চলতে পারে না।

এই পরিস্থিতিতে আসলে দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যার জন্য দায়ী অন্যরা। যারা কোনো রকম পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ছাড়াই এই কলেজগুলোকে অধিভুক্ত করেছে। এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, না পারছে গিলতে, না পারছে ফেলতে।

তাহলে এর সমাধান কি? এভাবেই কি চলতে থাকবে? আমাদের উত্তর হলো না, এভাবে চলতে পারে না। জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুটি কয়েক মানুষের ভুলের খেসারত কেন দেবে? আমরা মনে করি, অতি দ্রুত এই অচলাবস্থার সুরাহা হোক।

Bellow Post-Green View