চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘এটা আমার প্রাণের ক্লাব, এখানে জীবন গড়েছি’

মেসির মনের বরফ গলে গেছে। ২০২০-২১ মৌসুমে বার্সেলোনায় থেকে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। চলে যাওয়া আটকাতে তাকে আদালতে নেয়ার কথাও বলেছিল বার্সা। কিন্তু প্রাণের ক্লাবের সঙ্গে বিচ্ছেদটা আইনি লড়াই পর্যন্ত গড়াতে দিতে চাননি, থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সেজন্যই, সেটিও জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

আগস্টের শেষ সপ্তাহে ব্যুরোফ্যাক্সের মাধ্যমে বার্সার সঙ্গে চুক্তির একটি বিশেষ শর্ত ব্যবহার করে ফ্রি ট্রান্সফারে ক্লাব ছাড়ার যে বার্তা দিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন ফুটবল বিশ্বের মনোযোগ, সেটি হতে দেয়নি বার্সা। কারণ মেসি নাকি চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত ১০ জুনের আগে চলে যাওয়ার কথা জানাননি।

বিজ্ঞাপন

চুক্তির এই শর্তটা নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘এখন তারা বলছে আমি ১০ জুনের আগে চলে যাওয়ার কথা জানাইনি। সেসময় আমরা মৌসুমের মাঝে, লা লিগার জন্য লড়ছিলাম করোনা ভাইরাসের মধ্যে, এবং এই ভাইরাসটি মৌসুমের সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছিল।’

বিজ্ঞাপন

তারপরই টেনেছেন বার্সার প্রতি আজন্ম ভালোবাসার কথা, ‘আরেকটা পথ ছিল, আদালতে যাওয়া। কিন্তু আমি কখনোই বার্সার বিপক্ষে আইনি লড়াইয়ে যাব না, কারণ এই ক্লাবকে আমি ভালোবাসি, এই ক্লাবটি আমাকে সবকিছু দিয়েছে। এই ক্লাবটি আমার প্রাণের ক্লাব, এখানে আমি জীবন গড়েছি। আমি জানি, আমার মন বার্সাকে আদালতে নিতে কখনোই সায় দেবে না।’

বিজ্ঞাপন

দশ দিনের নীরবতা ভেঙে মেসি অবশেষে মুখ যখন খুললেন, সঙ্গে এটিও জানিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি তাকে দেয়া কথা রাখেননি। তবুও অনড়ভাব কাটিয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকা আসছে মৌসুমে ন্যু ক্যাম্পেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

‘ক্লাব সভাপতি সবসময় বলত মৌসুম শেষে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারব, থাকব নাকি চলে যাব। ভেবেছিলাম এবং নিশ্চিত ছিলাম, চাইলে ক্লাব ছাড়ার স্বাধীনতা পাব। সেটি হয়নি।’

‘এখন আমি বার্সেলোনায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ সভাপতি আমাকে বলেছেন, ক্লাব ছাড়তে হলে ৭০০ মিলিয়ন রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করেই কেবল আমাকে যেতে হবে, এবং সেটা অসম্ভব।’

মেসির ন্যু ক্যাম্প ছাড়ার গুঞ্জন ছিল গত কয়েকমাস ধরেই। সেটি ছিল নানা মহলের আলোচনার খোরাক। মেসির মাধ্যমে প্রকাশ্যে আছে তিনি ব্যুরোফ্যাক্স পাঠিয়ে ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর মেসির মন একেবারে বেঁকে বসে। বার্সা নতুন কোচ হিসেবে ডাচম্যান রোনাল্ড কোম্যানকে নিয়োগ দেয়। সেটির কয়েকদিনের মধ্যেই দল পুনর্গঠনের নানা আলোচনার মাঝে বিরক্ত হয়ে পড়া মেসি ব্যুরোফ্যাক্সের মাধ্যমে কর্তাদের জানিয়ে দেন ক্লাব ছাড়তে চান।