জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিএনপিপন্থী ২০১ জন আইনজীবী। রায়ের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে তারা এ রায়ের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি পাঠান।
রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে বিচারক এ রায় দিয়েছেন দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়: বেগম খালেদা জিয়া এই মামলায় ন্যায় বিচার পাননি। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে বিচারক এই রায় দিতে বাধ্য হয়েছেন। যে অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তার সাথে বেগম খালেদা জিয়ার ন্যূনতম কোন সংশ্লিষ্টতা নেই, যা বিচারের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের জনগণের কাছে সুস্পষ্ট হয়েছে।
রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলে খালেদা জিয়া নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে বেখসুর খালাস পাবেন, এমন প্রত্যশা করে বিবৃতিদাতা আইনজীবীরা বলেন: আমরা আইনজীবীরা ধারণা করছি যে, বিএনপি চেয়ারপার্সনকে এদেশের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে এই বানোয়াট, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আমরা আশা করি, বেগম খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন এবং নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে বেকসুর খালাস পাবেন এবং দেশের জনগণের মাঝে অতি শীঘ্রই ফিরে আসবেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়: আমরা আশঙ্কা করছি যে, উপরোক্ত হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার ফলে দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যকার দূরত্ব আরো চরম আকার ধারণ করবে। এর ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে পরিণত করার উদ্যোগ তৈরিতে রাজনৈতিক সমঝোতার পরিবেশ ধূলিস্যাৎ হওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিল। পাশাপাশি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা, তা অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হল।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, ড. রফিকুল ইসলাম মেহেদি, সাবেক সম্পাদক সম্পাদক সাইদুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্য গোলাম আরশাদ, আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার, এ বি এম ওয়ালিউর রহমান, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, জামিল আখতার এলাহি, মোহাম্মদ আলী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান মামুন, গাজী কামরুল ইসলাম, মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, এ এন এম আবেদ রাজা, মির্জা আল মাহমুদ, এবিএম রফিকুল হক তালুকদার, মাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী, একে এম এহসানুর রহমান, মীর হেলাল, সাইফুর রহমান, সাকিব মাহবুব, মো. সগির হোসেন লিয়ন, এম মাহবুবুর রহমান খান, মো. আনিসুর রহমান রায়হান, শেখ তাহসীন আলী, কাজী মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, শরীফ ইউ আহমেদ, গাজী তৌহিদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম সুমন, মো. আনিসুর রহমান খান, এসএম আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী আশরাফী, এস এম ইউনুস আলী রবি, এম এম ওয়াসের উদ্দিন বাবু, মো. নাসিমুল হাসান, মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মো. হাদিউল ইসলাম, জাহানারা বেগম, জয়নাল মুনশী সুমন, মো. শহিদুজ্জামান, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, মো. কামাল হোসেন তালুকদার, আশিকুর রহমান, মো. কামরুজ্জামান সেলিম, এ এম শওকত উল্লাহ, মাসুদ আহমেদ সাঈদ, শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দীপু, খান জিয়াউর রহমান ও শাহজাদী কোহিনূর পাপড়ীসহ ২০১ জন আইনজীবী এই বিবৃতি দেন।
আইনজীবী এ কে এম এহসানুর রহমান পরে সাংবাদিকদের বলেন: বিবৃতির পক্ষে ২০১ জন আইনজীবী সাক্ষর করলেও সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ৫০ জন আইনজীবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।









