লাদাখ সীমান্তে সেনা অবস্থান নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় পৌঁছেছে ভারত ও চীন। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থা কেটেছে। এ ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে আমেরিকা ও রাশিয়া।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সেনা প্রত্যাহারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। গত মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, সেনা প্রত্যাহারের কাজ ‘মসৃণভাবে’ চলছে।
চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশই দেপসাং, ডেমচক এলাকা থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই চার বছরে যে সব অস্থায়ী সেনা ছাউনি তৈরি হয়েছিল, তাও সরিয়ে ফেলা হবে। আগের মতোই দু-দেশের সেনাই টহল দেবে সীমান্তে। কিন্তু ‘টহলদারি সীমানা’ নিয়ে যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি না হয়, নজর থাকবে সে দিকেও।
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) সমস্যার পুরোপুরি সমাধানে ভারত এবং চীনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল আমেরিকা। জো বাইডেন সরকার মনে করে, সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত ভারত-চীন সীমান্তে ‘উত্তেজনা হ্রাস’ করবে। তবে আমেরিকা এও স্পষ্ট করে, এই বিষয়ে তারা কোনও ভূমিকা পালন করেনি।
আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভারত-চীন সীমান্তে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ের দিকে ওয়াশিংটন নজর রাখছে। ভারতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু সীমান্তের ‘উত্তেজনা হ্রাসে’র ব্যাপারে তারা কোনও ভূমিকা নেননি।
দু-দেশের সেনা সরানোর প্রক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে উপগ্রহচিত্রের মাধ্যমে। আমেরিকার ম্যাক্সার টেকনোলজির নেওয়া উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট, ডেপসাং ও ডেমচক এলাকায় বিভিন্ন অস্থায়ী সেনা ছাউনি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
উল্লেখ্য; ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে এলএসি পেরিয়ে পূর্ব লাদাখের বিভিন্ন এলাকায় এলএসি পেরিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছিল চীনা ফৌজের বিরুদ্ধে। উত্তেজনার আবহে ওই বছরের ১৫ জুন গালওয়ানে চীনা হামলায় নিহত হয়েছিলেন ২০ জন ভারতীয় সেনা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় জওয়ানদের পাল্টা হামলায় বেশ কয়েক জন চীনা সেনাও নিহত হয়েছিলেন। সেই থেকেই সীমান্তে উত্তেজনার পারদ অতিদ্রুত বাড়তে থাকে। গত চার বছরে দু-দেশের সেনাকর্তাদের মধ্যে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ফলপ্রসূ হয়নি। তবে গত ২১ অক্টোবর সীমান্তে চলমান উত্তেজনা হ্রাসের ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছয় ভারত এবং চীন। আমেরিকার মতো রাশিয়াও দু-দেশের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।







