ধর্ম ও জীবন

‘তিন কুল’ কেন পড়বেন, হাদিসে রয়েছে যে ফজিলত

প্রার্থনার জন্য হাত খোলা, মুসলিম ব্যক্তির হাতে তাসবিহ।. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবি: সংগৃহীত।

ইসলামে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পবিত্র কোরআনের শেষের দিকের তিনটি ছোট সূরা—সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস মুসলমানদের দৈনন্দিন আমলে বিশেষভাবে পরিচিত। একসঙ্গে এই তিন সূরাকে সাধারণভাবে বলা হয় ‘তিন কুল’।

আয়াতের সংখ্যা কম হলেও তিনটি সূরার বিষয়বস্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সূরা ইখলাসে আল্লাহর একত্ব ও অদ্বিতীয় সত্তার পরিচয়, সূরা ফালাকে বাহ্যিক বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে এবং সূরা নাসে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অন্তরের অশুভ প্ররোচনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

তিন কুলে কী বলা হয়েছে?

সূরা ইখলাস

সূরা ইখলাস কোরআনের ১১২ নম্বর সূরা। এতে আল্লাহ তাআলার একত্ব ও অমুখাপেক্ষিতার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“কুল হুয়াল্লাহু আহাদ কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য।”

(সহিহ বুখারি: ৫০১৩; সহিহ মুসলিম: ৮১১)

সূরা ফালাক

কোরআনের ১১৩ নম্বর সূরা সূরা ফালাক। এতে রাতের অন্ধকার, সৃষ্টির অনিষ্ট, জাদুর অনিষ্ট এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

সূরা নাস

কোরআনের ১১৪ নম্বর ও শেষ সূরা হলো সূরা নাস। এতে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা সৃষ্টিকারী শয়তান ও জিন-ইনসানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে।

সকাল ও সন্ধ্যায় তিন কুল

তিন কুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সকাল ও সন্ধ্যায় এগুলো তিনবার করে পড়া।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সকাল ও সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তিনবার করে পড়লে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

(সুনান আবু দাউদ: ৫০৮২; সুনান তিরমিজি: ৩৫৭৫)

ঘুমানোর আগে তিন কুল

ঘুমানোর আগে তিন কুল পড়াও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে শয্যায় যাওয়ার সময় দুই হাত একত্র করে তাতে ফুঁ দিতেন। এরপর সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তেন এবং দুই হাত দিয়ে শরীরের যতটুকু সম্ভব মাসেহ করতেন। তিনি এভাবে তিনবার করতেন।

(সহিহ বুখারি: ৫০১৭)

তিন কুলের মূল শিক্ষা

তিনটি সূরার মধ্যে রয়েছে একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শিক্ষা—আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস, তাঁর কাছে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং তাঁর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা।

তাই তিন কুল শুধু মুখস্থ করে পড়ার বিষয় নয়; বরং এর অর্থ ও শিক্ষা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। বিপদ, ভয় বা অশুভ আশঙ্কার সময়ে কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়ার শিক্ষা দেয় এই সূরাগুলো।

দৈনন্দিন আমলে রাখুন

সকাল-সন্ধ্যার আমল এবং ঘুমানোর আগের সুন্নত হিসেবে তিন কুল পড়া সহজেই দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা যায়। নিয়মিত তিলাওয়াতের পাশাপাশি এর অর্থ অনুধাবন করলে আল্লাহর ওপর নির্ভরতা ও তাওহিদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হতে পারে।

ছোট তিনটি সূরা কিন্তু মুমিনের জীবনে আল্লাহর আশ্রয় ও তাওহিদের গভীর শিক্ষা বহন করে।

বিষয়:ফজিলত হাদিস

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…