৭৪৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণে বৈষম্য কেন?

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অধীনে দেশের ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে কর্মরত ৭৪৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণ অনিশ্চয়তায় রয়েছে। ১২ থেকে ১৬ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ী চাকরির স্বীকৃতি পাননি তারা। অথচ একই ফাউন্ডেশনের ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি পদ অনুমোদন ছাড়াই স্থায়ী করা হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, ফাউন্ডেশনের বোর্ড সভা নিয়মিত হলেও আলোচ্যসূচি থেকে বাদ পড়ে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি। এ বিষয়ে বোর্ড গঠিত কমিটির সুপারিশ থাকলেও তা বাস্তবায়ন করেনি ফাউন্ডেশন। বরং পরবর্তী সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদ অনুমোদনের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন চাকরি করেও স্থায়ীকরণ, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন কর্মীরা।
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আইন, ২০২৩-এর ২২(২)(ঘ) ধারায় নতুন প্রবিধানমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত ২০১৬ সালের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগকালীন জ্যেষ্ঠতা ও চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৪ মে অনুষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের ৯৩তম বোর্ড সভায় সেবা কেন্দ্রের কর্মীদের যোগদানপত্র গ্রহণ ও চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
ওই কমিটি ৭ অক্টোবরের সভায় কর্মীদের প্রথম যোগদানের তারিখ থেকে যোগদানপত্র গ্রহণ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদ সৃজন না হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের সম্মতিক্রমে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ৭৪৪ জনের চাকরি বিদ্যমান পদে নিয়মিত করার সুপারিশ করে। কমিটির যুক্তি ছিল, পদ সৃজন একটি দীর্ঘ ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।
পরে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ ফাউন্ডেশনের ১৬৩১ নম্বর স্মারকে প্রজ্ঞাপন জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রথম যোগদানের তারিখ থেকে যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়। তবে চাকরি স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে পদ অনুমোদনের শর্ত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
৯৩তম বোর্ড সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ফাউন্ডেশনের ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি পদ অনুমোদন ছাড়াই স্থায়ী করা হয়েছে। অথচ সেবা কেন্দ্রের কর্মীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। একই আইনের আওতায় থাকা কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদ অনুমোদন একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এ কারণে চাকরি স্থায়ীকরণ আটকে রাখা যুক্তিসংগত নয়। ফাউন্ডেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হওয়ায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বোর্ডের। চাকরি স্থায়ীকরণের পাশাপাশি প্রথম যোগদানের তারিখ থেকে ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এ অবস্থায় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ৯৫তম বোর্ড সভায় বিষয়টি নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন সেবা কেন্দ্রে কর্মরত কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণ ও বেতন পুনর্নির্ধারণে কার্যকর সিদ্ধান্ত চান তারা।
আগামীকাল ১ নভেম্বর জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ৯৫তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আহমেদ কবীর চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ৭৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি বোর্ড সভায় গুরুত্ব সহকারে আলোচনায় থাকবে।






