ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আগে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্যসভা সদস্য নগেন্দ্র রায়, যিনি অনন্ত মহারাজ নামেও পরিচিত, নেতাজির স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর বিতর্কের সূত্রপাত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নগেন্দ্র রায়ের মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তিনি নেতাজিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজির কোনো ভূমিকা ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নেতাজি দেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন এবং যুদ্ধ করেছিলেন। নেতাজিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই রামপুরহাটে ‘নেতাজি সুভাষ রোড’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড’ করা হয়েছে। নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে সড়কের নাম পরিবর্তনের ঘটনাটি নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিতর্কের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাজিকে নিয়ে দুটি ঘোষণা দিয়েছেন। প্রথমত, বিধায়কদের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে সেবাকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এসব সেবাকেন্দ্রের জন্য রাজ্য সরকার নেতাজির ছবি সরবরাহ করবে এবং ৩০ হাজার টাকা করে অর্থ দেবে। এ বিষয়ে আগামী বিধানসভা অধিবেশনে বিল আনার কথাও জানানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নেতাজিকে নিয়ে ‘কুকথা’ বা অপমানজনক মন্তব্যের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। নেতাজিকে যারা সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার করছেন বা অপমানজনক কথা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি আমাদের সাইবার সেলকে নির্দেশ দিয়েছি। অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন সবার জন্য সমান এবং রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থানের পরও অনন্ত মহারাজ তার বক্তব্য থেকে সরে আসেননি। তিনি দাবি করেছেন, তার বক্তব্যে ভুল কিছু নেই।
ফলে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে নেতাজির ঐতিহাসিক ভূমিকা, তার আজাদ হিন্দ ফৌজ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তার অবদান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।








