রাশিয়ায় রহস্যজনক মৃত্যু, ‘দ্বিতীয় প্লেগ’ আক্রান্তের খবর নিয়ে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় দ্বিতীয় প্লেগ আক্রান্তের খবরকে ‘ভুয়া তথ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে সাইবেরিয়ায় একটি প্লেগ গবেষণাগারের কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সম্ভাব্য আক্রান্তের খবর নিয়ে রাশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আলজাজিরা, এপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দ্বিতীয় আক্রান্তের খবর প্রসঙ্গে বলেন, এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অধিকাংশ তথ্যই ভুয়া। পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্যের জন্য রাশিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসপোট্রেবনাদজোরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সাইবেরিয়ার ইরকুতস্কের একটি প্লেগ গবেষণাগারে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী এক নারী অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। রোববার রাশিয়া তার মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে। তবে ওই নারীর অসুস্থতার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে তার মৃত্যু প্লেগের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই ওই প্রতিষ্ঠানের আরও এক কর্মী অনির্দিষ্ট কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতে রাশিয়ার কাছে তথ্য চেয়েছে ডব্লিউএইচও।
সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, দ্বিতীয় এক কর্মীর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে দুটি গণমাধ্যম থেকে তথ্য পেয়েছে ডব্লিউএইচও। এর মধ্যে একটি রুশ গণমাধ্যম। এ বিষয়ে রাশিয়ার কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর মহামারি ও অতিমারি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মারিয়া ভ্যান কারখোভ বলেন, প্রথম সন্দেহভাজন রোগীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে কোন জীবাণু দায়ী, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ওই নারী কীভাবে আক্রান্ত হয়েছেন, সেটিও স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, ডব্লিউএইচওকে সময়মতো ও নিয়মিত তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। সংস্থাটি রাশিয়ার কাছে যেসব প্রশ্ন করেছে, সেগুলোর উত্তরও প্রয়োজন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য নিউমোনিক প্লেগের ঝুঁকি ‘অত্যন্ত কম’ বলে জানিয়েছে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।
সিডিসির পরিচালক এরিকা শোয়ার্টজ জানান, সাইবেরিয়ার ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতকারীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাইবেরিয়া থেকে বছরে প্রায় ২০০ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওই অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।
সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের কোনো হুমকির ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।






