ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশে যাওয়ার সময় হয়রানির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন ওভারসিজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ওকাব)-এর সভাপতি সাংবাদিক নজরুল ইসলাম। বিষয়টি বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবসের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, রোববার (৩ মে) চীনে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বোর্ডিং পাস সংগ্রহের পর ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাকে থামানো হয় এবং পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তার বিষয়ে যাচাই শুরু করেন।
তিনি বলেন, তার পাসপোর্ট ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পর তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন এসপির অফিসে নেওয়া হয়। সেখানে তার পেশা, কর্মস্থল এবং কোনো মামলায় জড়িত আছেন কি না-এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর সদস্যরাও তার সঙ্গে কথা বলেন বলে তিনি জানান।
ভুক্তভোগী বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তাকে জানানো হয় যে পুলিশের দিক থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তবে ডিজিএফআই-এর ‘ক্লিয়ারেন্স’ না আসায় ভ্রমণে সাময়িক বাধা দেওয়া হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি বলে জানিয়েছেন। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় বিমানবন্দরের যাত্রী লাউঞ্জে অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত তাকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয় এবং তিনি যাত্রা বাতিল করে ফিরে যান বলে জানান।
তিনি দাবি করেন, এ ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণার চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গণমাধ্যম স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের চলাচল ও পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি গণমাধ্যম ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার করেছে।








