ধর্ম ও জীবন

গোপনে দান করার মর্যাদা কতটা? লোক দেখানো ইবাদত সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা

গোপনে দান করার মর্যাদা কতটা? লোক দেখানো ইবাদত সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা

মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়, শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালো কাজ করাই প্রকৃত ইবাদতের সৌন্দর্য। ইসলাম গোপনে দান-সদকা করাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। কারণ এমন দানের সঙ্গে মানুষের প্রশংসা, পরিচিতি কিংবা বাহবা পাওয়ার প্রত্যাশা জড়িয়ে থাকে না।

আমরা অনেক সময় কাউকে সাহায্য করলে সেই বিষয়টি অন্যদের জানাতে চাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করি, সাহায্যের গল্প তুলে ধরি কিংবা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকি। তবে ইসলাম শেখায়, প্রতিটি ভালো কাজের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। মানুষের প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইবাদত করলে তা রিয়ার (লোক দেখানো) পর্যায়ে চলে যেতে পারে। আর রিয়া ইসলামে নিন্দনীয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো, তবে তা ভালো; আর যদি তা গোপনে করো এবং অভাবগ্রস্তদের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও ভালো।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭১)।

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, দান প্রকাশ্যে করা নিষিদ্ধ নয়। তবে গোপনে দান করার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কারণ এতে দানগ্রহীতার সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করা সহজ হয়। একই সঙ্গে দাতার নিয়তও মানুষের প্রশংসা থেকে দূরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস রয়েছে। তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়া লাভ করবে, যেদিন তার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্যে একজন হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি এমন গোপনে দান করেন যে তার বাম হাতও জানে না, ডান হাত কী দান করেছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৩১)।

এই হাদিস গোপনে দান করার মর্যাদা তুলে ধরে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, সব ধরনের দান গোপন করতেই হবে। কখনো অন্যকে উৎসাহিত করার জন্য দানের কথা প্রকাশ করাও ভালো হতে পারে। কিন্তু সেখানে নিয়তের বিশুদ্ধতা বজায় রাখা জরুরি।

কীভাবে গোপনে ভালো কাজের অভ্যাস করবেন? 

প্রতিদিন সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে সাহায্য করা, অভাবী মানুষের হাতে পরিচয় প্রকাশ না করে অর্থ পৌঁছে দেওয়া, কারও চিকিৎসার খরচ গোপনে বহন করা কিংবা বিপদে থাকা মানুষটির পাশে দাঁড়ানো—এসবই হতে পারে নীরব ভালো কাজের উদাহরণ। এমনকি কাউকে ভালো পরামর্শ দেওয়া, বিপদে সাহায্য করা কিংবা কারও সম্মান রক্ষা করাও সওয়াবের কাজ হতে পারে।

ইসলামের শিক্ষা হলো, ভালো কাজের জন্য মানুষের স্বীকৃতি জরুরি নয়। বরং এমন কিছু আমল থাকা প্রয়োজন, যা শুধু আল্লাহ জানেন। কারণ মানুষের চোখে বড় হওয়ার চেয়ে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

বিষয়:ইবাদত ইসলামের শিক্ষা গোপনে দান

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…