ক্রিকেট

‘অটল-প্রহরীর‘ সামনে ড্রতেই আটকে গেল বাংলাদেশ

‘অটল-প্রহরীর‘ সামনে ড্রতেই আটকে গেল বাংলাদেশ

ইতিহাস গড়েছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্ট বাঁচাতে শেষ দিনে আফগানিস্তানের হাতে ছিল ৭ উইকেট। জয়ের জন্য লাগত ৩৪৭ রান। তবে জয়ের জন্য নয় বরং ড্রয়ের লক্ষ্যে থেকে শেষ পর্যন্ত লড়েছে তারা, আর পেরেছেও। সেদিকউল্লাহ অটলের অতন্দ্র প্রহরীর মত ব্যাটিংয়ের পর বাকিরাও ছিলেন অনবদ্য। মাটিকামড়ানো ব্যাটিংয়ে ১৪২ ওভার খেলে ৫ উইকেট হারিয়ে পার করে দিয়েছে দিন। হারতে বসা ম্যাচে ড্র করেছে আফগানরা।

চতুর্থ ইনিংসে আফগানিস্তানের খেলা সর্বোচ্চ ওভারের ইনিংস এটি। আর সব মিলিয়ে নিজেদের পঞ্চম সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড, তৃতীয় সর্বোচ্চ ওভার খেলার রেকর্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষেও চতুর্থ ইনিংসে এত বেশি ওভার খেলেনি কোনো দল।

১৪২ ওভারেও ১০ উইকেট তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ বোলাররা। অবশ্য এর মধ্যে ফিল্ডিং মিসের বড় দায় রয়েছে। একাধিক ক্যাচ ও রানআউট মিসের খেসারত দিতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে।

শুক্রবার জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটে নেমে প্রথম ইনিংসে ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে নেমে ৮৯.১ ওভারে ২৪০ রানে থামে আফগানিস্তান। ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ১০৫.২ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৭২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৭৮ রান। ৪৭৯ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে দিন পার করে আফগানিস্তান। আর ড্র মানতে হয়ে বাংলাদেশের।

৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩২ রান করে শেষদিনে নামে আফগানিস্তান। সেদিকউল্লাহ অটল ৩৫ রান এবং হাশমতউল্লাহ শাহিদী ১৯ রানে শুরু করেন। দিনের শুরুতে পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন হাশমত উল্লাহ শাহিদী। ইকরাম আলি খিলকে নিয়ে হাল ধরেন অটল। মধ্যাহ্ন বিরতির খানিক আগে খিলকে ফেরান ইবাদত।

লেগ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল করেছিলেন ইবাদত। পুল শট খেলতে চেয়েছিলেন ইকরাম। বলটি তার গ্লাভসে লাগলে কিপারের ডানদিকে চলে যায়, সেখানে লিটন লেংথ ডাইভ দিয়ে ডান হাত বাড়িয়ে বল গ্লাভসবন্দী করেন। ৬৯ বলে ৩৩ রানে ফেরেন ইকরাম। ২০২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় আফগানরা।

এই ক্যাচ ধরে বিশ্বরেকর্ড গড়েন লিটন দাস। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসাবে এক ম্যাচে দুটি পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস (৫৩, ১০২) ও ৯টি ডিসমিসালের রেকর্ড এখন তার। আগের রেকর্ডটি ছিল সাউথ আফ্রিকার ডিটি লিন্ডসের। ১৯৬৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসে ৬৯ ও ১৮২ রান করেন, এর সঙ্গে উইকেটের পিছনে ৮টি ক্যাচ নেন তিনি। ৬০ বছর পর এসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে লিন্ডসের রেকর্ড ভাঙলেন লিটন।

৮২তম ওভারে নতুন বল নেয় বাংলাদেশ। খানিক বাদে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অটল। ২৪২ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় আফগানরা। শান্তর ক্যাচ বানিয়ে ইসমাতকে ফেরান মিরাজ। ৬০ বলে ৪ রান করেন।

পঞ্চম উইকেট হারানোর পর ফের মাঠে ফেরেন শাহিদী। খিলের সাথে যোগ করেন আরও ২২ রান। দলীয় ২৬২ রানে শাহিদীকে হাসানের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মিরাজ। ৬৯ বলে ৩৬ রান করেন। ইয়ামিন আহমেদজাইকে নিয়ে দ্বিতীয় সেশন পার করেন অটল।

চা বিরতির পর ফিরে সপ্তম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ানো সেদিকউল্লাহ অটলকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। তানজিদের হাতে ক্যাচ দেন শর্টলেগে। ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৩২ বলে ১১১ রান করেন। ২৮১ রানে সপ্তম উইকেট হারায় আফগানরা।

অষ্টম উইকেটের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১১০ বল। অবশেষে সাফল্য পায় দিনের খেলার ৫ ওভার বাকি থাকতে। মিরাজের বলে ইয়ামিন ক্যাচ দিয়েছেন মুমিনুলের হাতে। ৮৫ বলে ১৯ রান করেন ইয়ামিন। পরে বাকি সময়টা পার করেন কাইস আহমেদ (৮০ বলে ৪৯*) ও জিয়া-উর-রহমান (১২ বলে ০*)।

এর আগে চতুর্থদিনে পাহাড়সম রানের লক্ষ্যে নেমে ইনিংসের সপ্তম বলে উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ২ রান করে ইবাদতের শিকার হন আব্দুল মালিক। ২৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দলটি। শহিদউল্লাহকে ফেরান হাসান। ১৯ বলে ১৯ রান করে ফেরেন।

তৃতীয় উইকেটে রহমত শাহ ও অটল মিলে যোগ করেন ৮২ রান। ৪২.১ ওভারে দলীয় ১১০ রানে রহমতকে ফেরান ইবাদত। ১২৪ বলে ৫১ রান করেন। পরে অটল ও হাশমতউল্লাহ মিলে দিনের খেলা শেষ করেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ইবাদত ও মিরাজ নেন ৩টি করে উইকেট, হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ১টি করে উইকেট নেন।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন তানজিদ তামিম। ৭১ বলে ৮৩ রান করেন। সাদমান ইসলাম ৬৭, লিটন দাস ৫৩, মুমিনুল হক ৩৯, নাঈম হাসান ৩৫*, শান্ত ২৯ এবং মিরাজ ২৪ রান করেন।

আফগান বোলারদের হয়ে মোহাম্মদ সালেম ৪ উইকেট নেন। ইয়ামিন আহমদজাই ৩টি ও ইসমাত আলম নেন দুটি উইকেট। এছাড়া কাইস আহমেদ নেন একটি উইকেট।

জবাবে নেমে প্রথম ইনিংসে আফগান ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান করেন রহমত শাহ। ১০৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। ৬২ রান করেন আব্দুল মালিক। ইকরাম আলি খিল ৩২ এবং শহিদউল্লাহ ২০ রান করেন।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে হাসান হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট নেন। ইবাদত নেন ৪ উইকেট। এছাড়া মিরাজ নেন একটি।

১০৬ রানে এগিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে বাংলাদেশ ব্যাটারদের মধ্যে সেঞ্চুরি করেন লিটন দাস। লিটন ১১৬ বলে ১৪ চারে ১০২ রান করেন। শান্ত ৮২, মুশফিকুর রহিম ৮১, মিরাজ ৫২*, তানজিদ তামিম ৩১ এবং সাদমান ইসলাম ১৩ রান করেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তান বোলারদের মধ্যে ইয়ামিন আহমদজাই, মোহাম্মদ সালেম ও জিয়া-উর-রহমান নেন দুটি করে উইকেট। কাইস আহমেদ নেন ১ উইকেট।

বিষয়:আফগানিস্তান আবুধাবি টেস্ট ইবাদত বাংলাদেশ মিরাজ মুশফিক

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…