দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সফলভাবে ১২ বছর পূর্ণ করে ১৩তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা-যশোর রুটে একটি ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ২৫টি উড়োজাহাজের বহর নিয়ে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২০টি গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে তিনটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ মোট ২৫টি উড়োজাহাজ। যাত্রা শুরুর পর থেকে এয়ারলাইন্সটি ৯০ শতাংশের বেশি অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড ধরে রেখেছে।
দেশীয় রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর ও রাজশাহীতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজুসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ নেক্সট জেনারেশন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কলম্বো, জহুরবারু, পেনাং ও হংকংয়ে নতুন রুট চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া চলতি বছর কাঠমান্ডু রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে লন্ডন, রোমসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহর এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক, টরন্টো ও সিডনিতে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশীয় এভিয়েশন খাতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউএস-বাংলা ২০১৫, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে ‘বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্স’ সম্মাননা অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, সময়ানুবর্তিতা এবং বিশেষ সেবার কারণে দেশের যাত্রীদের আস্থা অর্জন করেছে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে দেশে-বিদেশে প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্গো পরিবহন সেবাও দিয়ে আসছে এয়ারলাইন্সটি।
ইউএস-বাংলা আরও জানায়, তাদের টিকিট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, নিজস্ব ৪০টির বেশি সেলস অফিস এবং কয়েক হাজার ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সংগ্রহ করা যায়। নিয়মিত যাত্রীদের জন্য রয়েছে ‘স্কাইস্টার’ ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ার কর্মসূচি।
এক যুগপূর্তি উপলক্ষে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে যাত্রীসেবার মান ধরে রাখতে আধুনিক উড়োজাহাজের বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অংশীদার হতে পেরে ইউএস-বাংলা গর্বিত।
এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে অবদান রাখা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর, করপোরেট অংশীদার, গণমাধ্যমকর্মী এবং ইউএস-বাংলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।







