আড়াই বছর পর ঢাকায় ফিরছে ইউএস ট্রেড শো, মার্কিন বিনিয়োগের আশা অ্যামচ্যামের

ছবি : সংগৃহীত
আড়াই বছর বিরতির পর ঢাকায় ফিরছে ইউএস ট্রেড শো। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
ইউএস ট্রেড শোর ৩০তম আসর আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শুরু হবে। চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। এতে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বিনিয়োগের সুযোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) এ তথ্য জানায়।
অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য আগে থেকেই ঘোষণা করেছে চেম্বার। এ লক্ষ্য অর্জনে ট্রেড শো ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে যদি ১০ থেকে ১২টি নতুন মার্কিন কোম্পানিকে বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়, সেটিও হবে একটি বড় অর্জন।’
আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের প্রদর্শনীতে ৬৩টি বুথের মাধ্যমে ৩৬টি কোম্পানি ও সাতটি স্টার্টআপসহ মোট ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। বিভিন্ন দেশের আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত থাকবেন। তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজবেন।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী খোলা থাকবে। তিন দিনে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার দর্শনার্থী আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিনা মূল্যে প্রদর্শনীতে প্রবেশ করা যাবে। ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের প্রদর্শনীতে অংশ নিতে একটি পাসই যথেষ্ট। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি তিন দিনে ছয়টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি, নারীর নেতৃত্ব, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে।
এসব আলোচনায় নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রথমবারের মতো প্রদর্শনীতে খাতভিত্তিক বিশেষ জোন থাকবে। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা, ভোগ্যপণ্য, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে।
এ ছাড়া উদীয়মান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবন তুলে ধরা এবং সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে থাকবে একটি বিশেষ স্টার্টআপ জোন।
প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য নকশিকাঁথা ও জামদানি ছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য স্বীকৃত ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য তুলে ধরা হবে।
একটি কার্নিভাল জোনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। পাশাপাশি একটি হেরিটেজ কর্নারে ইউএস ট্রেড শোর ৩০ বছরের যাত্রা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এর অবদান তুলে ধরা হবে।
এবারের আয়োজনটি বাংলাদেশে অ্যামচ্যামের প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তিও উদ্যাপন করবে।
আয়োজকেরা আশা করছেন, এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার হবে, বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং বাণিজ্য ও প্রযুক্তি অংশীদারত্বের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।





