ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেওয়া প্রাক্কলনের তুলনায় যুদ্ধের ব্যয় ২৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে আরও কয়েক দশক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব এখনো প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের পরিচালন ব্যয়ের বাইরে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করতে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন এবং যুদ্ধে হারানো বিমানসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতি পূরণে আরও ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে। হারানো সরঞ্জামের মধ্যে অনেক ড্রোনও রয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। নির্বাচনের আগে অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক চাপে রয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের জনসমর্থন কমেছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে যুদ্ধ শুরু করেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। পরে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল অস্ত্র, বিশেষ করে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য জেডিএএম নির্দেশিত বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। এসব অস্ত্রের পর্যাপ্ত মজুতও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
তবে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এই বিরতির সুযোগে ইরান ভূগর্ভস্থ অস্ত্রের মজুতকেন্দ্র থেকে অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধারের সময় পায়। এর ফলে দেশটির কিছু প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আবারও ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে।
এরপর ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় বন্ধ করতে দেশটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নির্দেশ দেওয়া হলে বড় পরিসরে সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন।
গত জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে প্রাক্কলন করেছিলেন। সর্বশেষ হিসাবে তা ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
যুদ্ধের ব্যয়ের মধ্যে বিমান পরিচালনা থেকে শুরু করে সাইবার সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামতে সম্ভাব্য বিপুল ব্যয় এই হিসাবের মধ্যে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।






