আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামে আক্রান্ত, শনাক্ত ৫ হাজার ছাড়াল

শনাক্ত হওয়া মোট আক্রান্তের প্রায় ৬০ শতাংশই শিশু ও কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামে আক্রান্ত, শনাক্ত ৫ হাজার ছাড়াল

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ১৮২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ৩৫ বছরের মধ্যে দেশটিতে এটিই হামে আক্রান্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রকাশিত তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অত্যন্ত সংক্রামক হলেও টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য এ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই শিশু ও কিশোর। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের ১৮ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। আর পাঁচ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের হার ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের প্রায় ৫৯ শতাংশই শিশু-কিশোর।

এ বছর এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া আক্রান্তদের মধ্যে ৪ হাজার ৯৯৩ জনই বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রে কিন্ডারগার্টেনে শিশুদের টিকা গ্রহণের হার কমে যাওয়ার সময়েই হামের এ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে এ হার ছিল ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে।

২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া হামে আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরজুড়ে শনাক্ত হওয়া ২ হাজার ২৮৯ জনের দ্বিগুণেরও বেশি।

মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সংস্থাটির প্রকাশিত মৃত্যুর সংখ্যা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া হিসাবের চেয়ে কম। বিশেষ করে হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পেনসিলভেনিয়ায় এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

পেনসিলভেনিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরে অঙ্গরাজ্যটিতে হামে ১ হাজার ৪৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

হামে মৃত্যুর সংজ্ঞা ও হিসাব নির্ধারণ নিয়ে পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের মধ্যে বিরোধ চলছে।

পেনসিলভেনিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, কোনো ব্যক্তির শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর উপসর্গ দেখা দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হলে সেটিকে ‘হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যু’ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে মৃত্যুর কারণ অন্য কোনো সম্পর্কহীন ঘটনা হলে সেটি এর আওতায় পড়ে না।

গত আগস্টে পেনসিলভেনিয়ায় টিকা না নেওয়া দুজনের হামে মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। সিডিসি প্রথমে জাতীয় মৃত্যুর তালিকায় এ দুটি মৃত্যুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত করলেও পরে তা বাদ দেয়। টিকা নিয়ে সংশয়বাদী হিসেবে পরিচিত কেনেডি ওই মৃত্যুর কারণ হাম ছিল কি না, কিংবা হাম মৃত্যুর জন্য দায়ী বা আংশিকভাবে দায়ী ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর এ সিদ্ধান্ত আসে।

সিডিসি জানিয়েছে, হামে মৃত্যুর হিসাব নির্ধারণে একটি অভিন্ন সংজ্ঞা তৈরির জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল এপিডেমিওলজিস্ট কাউন্সিলের সঙ্গে কাজ করছে।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মৃত্যুর হিসাব নিয়ে এ বিরোধ হামের প্রভাব নিরূপণে সিডিসিকে দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত করছে। মহামারি বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর হিসাব রাখা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও সিডিসির দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতি।

দুই দশকেরও বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে হাম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে আবারও রোগটির সংক্রমণ বাড়ছে। বিশ্বজুড়েও হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে টিকাবিরোধী মনোভাব রয়েছে এমন জনগোষ্ঠী এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সীমিত এমন এলাকায় সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কোনো একটি অঞ্চলে টিকা গ্রহণের হার কমে গেলে হাজার হাজার মাইল দূরের মানুষও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই হাম প্রতিরোধকে বৈশ্বিক দায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

বিষয়:টিকা পেনসিলভেনিয়া যুক্তরাষ্ট্র হাম

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…