কঙ্গোয় ইবোলায় মৃত্যু ৫ হাজার ছাড়াল, আফ্রিকার দেশগুলোতে সতর্কতা

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে প্রাদুর্ভাব শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে কঙ্গোয় ১০ হাজারের বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন।
এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ ধরন। এই ধরনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা কার্যকর প্রতিষেধক নেই।
লক্ষণ শনাক্তে বিলম্ব, অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে এবার ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কঙ্গোর ২৬টি প্রদেশের মধ্যে আটটিতে ইতিমধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে সংক্রমণ পৌঁছেছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। গত সপ্তাহে চতুর্থ আফ্রিকান দেশ হিসেবে নাইজেরিয়ায় ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর আগে পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়া ও উগান্ডায় রোগী শনাক্ত হয়েছিল। চলতি বছরের এই প্রাদুর্ভাবকে ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর চেয়ে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে। সে সময় গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের ভ্রমণে বিধিনিষেধ ও কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার কেনিয়া থেকে সৌদি আরবে প্রবেশ ও দেশটিতে ভ্রমণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সৌদি নাগরিকদের কেনিয়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেনিয়া থেকে আসা নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছে। দেশটি থেকে কোনো ভ্রমণকারীকে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এমনকি তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে সৌদি আরবে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে, যদি তারা আগের ২১ দিনের মধ্যে কেনিয়া বা ইবোলায় আক্রান্ত অন্য কোনো দেশে অবস্থান করে থাকেন।
এর আগে গত জুনে ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে সৌদি আরবে ভ্রমণ এবং এসব দেশ থেকে যাত্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল রিয়াদ।






