তুরস্ক ও সৌদি আরব তাদের নাগরিকদের পরস্পরের দেশে ভ্রমণ করার জন্য ভিসা শিথিল করার বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে, এমনই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
মঙ্গলবার (৫ মে) এক তুর্কি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বুধবার আঙ্কারায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান অংশ নেবেন।
সূত্র অনুযায়ী, তুরস্ক-সৌদি সমন্বয় পরিষদের বৈঠকের পাশাপাশি সাধারণ ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা শিথিলের এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি দূতাবাসে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের পর দুই দেশের সম্পর্ক মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। ওই ঘটনায় তুরস্ক সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। তবে ২০২০ সালের পর থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেয় উভয় দেশ। বিশেষ করে ২০২১ সাল থেকে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায়, যখন তুরস্ক খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয় এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায়।
বৈঠকে তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে ‘আঞ্চলিক মালিকানা’র গুরুত্ব তুলে ধরবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইরান সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে আঙ্কারা। এছাড়া হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা যাতে নতুন সংঘাত সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও সতর্কতা জানানো হবে বলে জানিয়েছে সূত্র।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঙ্কারা ও রিয়াদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের এই প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।








