খান মোহাম্মদ জহুরুল হক: রাজবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাস ও সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও কয়েজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের আহলাদিপুর টিটিসি ভবনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে সবার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, সকাল ৮ টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ফরিদপুরগামী লোকাল আমানত শাহ নামের একটি বাস সদর উপজেলার রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের আহলাদিপুর টিটিসি ভবনের সামনে এলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। আহত হয় ৫-৬ জন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। এছাড়া ফরিদপুর থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে ভাঙ্গা এলাকায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।
নিহত বিএম নাজিম উদ্দিনের (৫৪) পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে রাজবাড়ী শহরের বাসা থেকে ব্যক্তিগত কাজে বাসযোগে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভাঙ্গা এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
বিএম নাজিম উদ্দিন রাজবাড়ী শহর সমাজসেবা অফিসের সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলা সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, সকাল ৮ টার দিকে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় বিকট আওয়াজ হয়। এসময় দ্রুত বের হয়ে রাস্তায় গিয়ে দেখি বাস ছিটকে পড়ে আছে। বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। রাস্তার ওপারে খাদের মধ্যে ট্রাক পড়ে আছে। ঘটনাস্থলেই আমরা একজনের মরদেহ পাই। আহত ৫-৬ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই।
আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানা বলেন, আহতদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ও ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চালক ও হেলপাররা পলাতক।








