যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় ওয়াশিংটন ‘অযৌক্তিক’ ও ‘একতরফা’ দাবি তুলছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ মন্তব্য করেছেন।
সোমবার ১১ মে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ বিষয়টি প্রকাশ করে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রস্তাব ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘উদার ও বৈধ উদ্যোগ’। তিনি দাবি করেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করা, অবরোধ প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ মুক্তির মতো ন্যায্য শর্তই সামনে এনেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই মাসের যুদ্ধ শেষ করার মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরান একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শর্তকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থাকে ‘অচলাবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রোমের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক আন্দ্রেয়া দেসি। তার মতে, এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট উভয় বাজারেই দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছে। মুখপাত্র বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও বেআইনি।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, চলমান উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকেও আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।








