অপরাধ

মিরপুরে দখল-চাঁদাবাজি: শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন বাহিনীর ৩ ভাগনে গ্রেপ্তার

মিরপুরে দখল-চাঁদাবাজি: শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন বাহিনীর ৩ ভাগনে গ্রেপ্তার
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

রাজধানীর মিরপুরে চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও জমি দখলের অভিযোগে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত তিনজনের তিন ভাগনেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মিরপুর মডেল থানা-পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মাধ্যমে আদায় করা চাঁদার টাকা তাদের বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী তিন মামার কাছে পাঠানো হতো।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মেহেদী হাসান ওরফে জয় (৩৯), সানজিম হাসান (২৭) ও মো. অমিত হাসান (২৮)।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা মিরপুরের ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মফিজুর রহমান মামুন, মশিউর রহমান ও জামিলুর রহমান ওরফে জামিলের ভাগনে। তাদের মা নাসিমা বেগম ওই তিনজনের বড় বোন।

সম্প্রতি চ্যানেল আই অনলাইনে ‘মিরপুরে ‘মামুন বাহিনীর’ দখল-চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেহেদী হাসান ওরফে জয়ের মাধ্যমে আদায় করা চাঁদার টাকা বিদেশে পলাতক মামুন, মশিউর ও জামিলের কাছে পাঠানো হতো।

পুলিশের অভিযোগ, জয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, প্লট ও ফ্ল্যাট দখল, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সানজিম হাসানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে বিদেশে পলাতক মামুন, মশিউর ও জামিলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা ফোনে পরস্পরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলার তদন্ত চলছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আওয়ামী মহাজোটের সাবেক এমপি এম এ আউয়াল মিরপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন বাহিনীকে দিয়ে বহু জমি জবরদখল করেছেন বলে অভিযোগ

প্রসঙ্গত, শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন বাহিনীর বিরুদ্ধে সাগুফতা হাউজিং এলাকাতেও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। সেখানে ছয় বছর আগে আবাসন পাঁচ কাঠা জমি কিনে ঘর নির্মাণ করেছিলেন ১৮টি পরিবার। এরমধ্যে বেশিরভাগ শেয়ারহোল্ডারই ছাত্রদল ও বিএনপির সাবেক-বর্তমান নেতাকর্মী।

তাদের অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে গত ২৯ জুলাই রাতে খননযন্ত্র দিয়ে ঘরগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন দপ্তরে এবং বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার কাছে গিয়েও তারা কোনো সমাধান পাননি। বিগত আওয়ামী মহাজোটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল তার আবাসন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জমি বিক্রি করলেও এখন বিএনপির নাম ভাঙানো শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন বাহিনীকে দিয়ে ছাত্রদলের সাবেক নেতাকর্মীদের জমিসহ বহু মানুষের জমি তিনি পুনরায় দখল করেছেন।

সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে সাধুবাদ জানিয়ে এসব জমি প্রকৃত মালিকদের দ্রুত বুঝিয়ে দিতে তারা সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিষয়:গ্রেপ্তার চাঁদাবাজি জমি দখল ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ফোর স্টার গ্রুপ মিরপুর

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…