বাংলাদেশ

কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি মারা গেছেন

কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি মারা গেছেন
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

কবি, অনুবাদক ও সাংবাদিক রথো রাফি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর।

গত সোমবার থেকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন রথো রাফি। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন এই নিভৃতচারী কবি।

রথো রাফির ছোট ভাই মো. এহতেশামুল হক মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

রথো রাফি কবিতা ও অনুবাদে নিজস্ব ভাষাভঙ্গি তৈরি করেছিলেন। তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘অক্ষর ও বালির পৃথিবী’। ৪৩২ পৃষ্ঠার এই বইয়ে স্থান পেয়েছিল দুই শতাধিক কবিতা। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুই দশকে লেখা কবিতাগুলোর সংকলন এটি। তার কবিতায় মানুষের জন্ম-মৃত্যুর দর্শন থেকে শুরু করে কৃষ্ণের বাঁশি ও যিশুর ক্রুশযাত্রার মতো নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে। এছাড়া বিশ্বসাহিত্যের নানা কবির অনূদিত কবিতা রয়েছে তার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ তারুয়া গ্রামে ১৯৭৫ সালের ৩১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন রথো রাফি। তার মা-বাবা আগেই মারা গেছেন। বাবা আবুল কাশেম আশুগঞ্জ হাজি আব্দুল জলিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন। মা জাহানারা বেগম সরকারি চাকরি করতেন। বর্তমানে তার দুই ভাই রয়েছে। পেশা ও কবিতার জগতে রথো রাফি হিসেবে সবার কাছে পরিচিত হলেও তার মূল নাম মো. মোজাম্মেল হক। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।

রসায়নশাস্ত্রে লেখাপড়া করলেও কবিতা ও অনুবাদের জগতে তার মনন গড়ে উঠেছিল। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে ছোটকাগজ আন্দোলন ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী সাহিত্যিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানবিরোধী ছোটকাগজ গাণ্ডীবের নিয়মিত লিখতেন তিনি।

রথো রাফি অনুবাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি এরিখ ফ্রাইড, চার্লস বুকোস্কি, মুহাম্মদ আল-মাঘুত ও ইয়ারোস্লাভ সাইফার্টের মতো বিশ্বখ্যাত কবিদের কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেছেন। তার কাজের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার পাঠকদের বিশ্বকবিতার নানা ধারা ও কণ্ঠের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক সমকালে সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া ভোরের কাগজের অনলাইনে শিফট ইনচার্জ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে দক্ষিণ তারুয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে রথো রাফির মরদেহ দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার ভাই এহতেশামুল হক।

বিষয়:অনুবাদক ফুসফুস ও কিডনি জটিলতা মৃত্যু রথো রাফি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…