ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় তিন গুণ বাহিনী, নজরদারিতে ড্রোন-সিসিটিভি

ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন দেখছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সাধারণ জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে ড্রোন ও বাহিনীর সদস্যদের শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে প্যানেলভুক্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তে কমিশন সন্তুষ্ট। আগামী ২৯ অক্টোবরও এমন সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা ভাবছে না কমিশন। সাধারণ জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। তাই বাড়তি কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন আছে বলে মনে করছে না কমিশন।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এসব ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাব সদস্যদের শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা থাকবে। নির্বাচনী এলাকায় নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে ড্রোন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনী প্রচারে বাধা কিংবা প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত তিনটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি দুটি তদন্তাধীন রয়েছে। সেগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হবে বলে তারা আশাবাদী। একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।
আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্যানেলভুক্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






