মতামত

কারাগারের দেয়াল ভেঙে পড়ছে: ইমরান খানকে আটকে রাখা যাবে কী

কারাগারের দেয়াল ভেঙে পড়ছে: ইমরান খানকে আটকে রাখা যাবে কী

ছবি: সংগৃহীত

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের লংমার্চ শুরু হয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর লাক্কি মারওয়াত থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি যেখানে প্রদেশটির সাবেক মূখ্যমন্ত্রীও যোগ দিয়েছেন। যতো সময় যাচ্ছে লংমার্চে মানুষের যোগদানের সংখ্যা কেবলই বাড়ছে। আর এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে- এবার হয়তো আদিয়ালা জেলের দেয়াল ভেঙে পড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন এটি শুধু নিছক একটি রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়, বরং এটিকে সামলিয়ে শাহবাজ শরিফ সরকার ইমরান খানকে আর কারাগারে ধরে রাখাতে পারবে কিনা সে নিয়েও জোর গুঞ্জন চলছে। কেন পিটিআই-এর লংমার্চ নিয়ে এতো আলোচনা, কেন্দ্রে এতো উদ্বেগ সে আলোচনা পরিস্কার করতে এখানে নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয়ে আলোকপাত করবো।

১. আলোচনার প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা ও সরকারের দুর্বলতা

লংমার্চ শুরুর আগে শাহবাজ শরিফ সরকার পিটিআইয়ের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনায় বসে। লংমার্চ মূলত ২৭ সেপ্টেম্বরের জন্য পরিকল্পিত ছিল, পরবর্তীতে তা পিছিয়ে ৪ অক্টোবরে নেওয়া হয়। জাতীয় পরিষদের স্পিকার আইয়াজ সাদিকের সভাপতিত্বে দুই দফা আলোচনা হয়, কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা হয়নি।

পিটিআইয়ের প্রধান দাবি ছিল ইমরান খানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ, তার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ এবং গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের মুক্তি। বিরোধী রাজনীতিবিদ আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস জিও টিভিকে জানিয়েছেন, সরকার ও পিটিআই প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা ‘অচলাবস্থায়’ পৌঁছেছে। সরকারের এই শর্ত আরোপের কৌশল আসলে তার রাজনৈতিক দুর্বলতারই প্রমাণ। পিটিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজা দাবি করেছেন, রাতভর চলা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ হলো কেন্দ্রীয় সরকারের একটি শর্ত। সরকার চায়, খাইবার পাখতুনখোয়ায় তারা একতরফাভাবে যেসব সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার দায়ভার প্রাদেশিক সরকারকেই নিতে হবে। অন্যদিকে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর খান বলেছেন, আলোচনা প্রক্রিয়া ‘শুধুই প্রতীকী’ ছিল এবং প্রায় এক বছর ধরে দলীয় প্রধান ইমরান খানের সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রায় এক বছর আগে ইমরান খানের সাথে সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার অর্থ হলো, মাঠে নামতে হয়েছে দুই পক্ষকেই, এবং এই মাঠে সরকারের অবস্থান প্রতিরক্ষামূলক।

২. জনমতের উর্দ্ধগতি

লংমার্চে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাক্কি মারওয়াত থেকে প্রায় রওয়ানা হয়ে মার্চটিতে এখন কয়েক লক্ষ মানুষ সামিল হয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের মনের অবস্থা এবং আন্দোলনের বিস্তার সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ টিম উইলাসি-উইলসি বলেছেন, প্রতিবাদগুলো ‘মূলত অর্থনৈতিক কারণ দ্বারা পরিচালিত’ এবং “সাধারণ পাকিস্তানিদের জন্য দৈনন্দিন জীবন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সত্যিকারের সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফেলো জেমস ডরসি বলেছেন, ইমরান খান ‘মূলত একজন জনতুষ্ট নেতা’ এবং তার ‘একটি প্রকৃত জনআন্দোলন রয়েছে যার ব্যাপক জনসমর্থন আছে’। ডরসির মতে, ‘এ কারণেই আমি মনে করি আপনি দেখেছেন (প্রতিবাদকারীদের) ইসলামাবাদে প্রবেশ ঠেকানোর জন্য সরকারের দৃঢ় সংকল্প’।

সরকারের প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে ব্যাপক। ইসলামাবাদে প্রধান প্রবেশপথে দ্বিগুণ স্তরের শিপিং কন্টেইনার বসিয়ে পথ বন্ধ করা হয়েছে, যা যান চলাচল ও গণপরিবহনকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তবে এই দমন-পীড়নের ব্যয় ক্রমশ অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। প্রতিটি গ্রেপ্তার নতুন কর্মীকে আন্দোলনে টেনে আনছে, প্রতিটি বাধা নতুন ক্ষোভ তৈরি করছে। পাকিস্তানে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। সিদ্দিক জান নামের একজন বিশ্লেষক বলেছেন, ইমরান খান ‘মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর পর পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা, যাঁর চারটি প্রদেশ এবং আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানে শক্তিশালী ভোটার বেস রয়েছে’। ডরসি আরও উল্লেখ করেছেন যে ‘সেনা ও পুলিশ ইসলামাবাদ রক্ষায় সক্ষম এবং সরকার তাৎক্ষণিক কোনো হুমকির মুখে নেই। কিন্তু পাকিস্তানের সমস্যাগুলো জমা হচ্ছে’। যা প্রতিরোধ অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

৩. আইনি বাধা ও সরকার এবং আদালতের মতানৈক্য

শাহবাজ সরকারের বক্তব্য হলো, ইমরান খান আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কারাগারে আছেন। কিন্তু আইনি বাস্তবতা এই বক্তব্যকে ক্রমশ অসমর্থন করছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ইমরান খান কারাবন্দি এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। পিটিআই এবং তাঁর আইনজীবীরা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁর জনপ্রিয়তা নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যে দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার গতিধারা সরকারের জন্য ক্রমশ প্রতিকূল হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালের আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য বেসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা উচিত, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সংক্ষিপ্ত অবস্থানের পর তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেয়। এই ঘটনা প্রকাশ করে- সরকার বিচারিক প্রক্রিয়াকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে চায় না। একইভাবে, ইমরান খানের সাজা স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও সরকার অন্য মামলায় তাঁকে কারাগারে আটকে রেখেছে। এই আইনি কৌশল-এক মামলার সাজা স্থগিত হলে আরেক মামলায় ধরে রাখা-সরকারের “আইনের শাসন” বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

৪. ক্রিকেট বিশ্বের নৈতিক সমর্থন

ইমরান খানের বিরুদ্ধে সরকারের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল ‘আইনি প্রক্রিয়া’র আড়ালে তাকে জনবিচ্ছিন্ন করা। কিন্তু এই কৌশলটি ভেঙে পড়েছে তার দীর্ঘদিনের ক্রিকেট সঙ্গীদের প্রকাশ্য সমর্থনে। জাভেদ মিয়াঁদাদ-পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান এবং ইমরান খানের দীর্ঘদিনের সতীর্থ-প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে সরাসরি ইমরান খানের মুক্তির দাবি তোলেন। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তিনি এটা পাওয়ার যোগ্য নন। তার সঙ্গে যা করা হচ্ছে তা ঠিক নয়। এটা অপ্রয়োজনীয়। মিয়াঁদাদ আরও বলেন, `আমরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। আমরা একসাথে পাকিস্তানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি ইমরান খানকে চিনি। তিনি একজন সৎ মানুষ, তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত নন’।

ওয়াসিম আকরাম-১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং ইমরান খানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সতীর্থ-পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই এই সরকার তাকে ন্যায্য আচরণ দিক, যেমনটি আগে অন্য রাজনীতিবিদরা পেয়েছেন। আমি অধিনায়কের জন্য দুঃখিত, আমি তাকে বন্ধু হিসেবে মিস করি, আমি তাকে পরামর্শদাতা হিসেবে মিস করি, আমরা তাকে নেতা হিসেবে মিস করি। আমরা তিন বছর ধরে তার ছবি দেখিনি”। আকরাম স্পষ্ট করে বলেন, `আইনের আদালত আইনের আদালত। কিন্তু যতদূর তার স্বাস্থ্যের বিষয়, সেখানে কোনো আপস হতে পারে না। তাকে তাকে চিকিৎসা ও পরিবারের সাক্ষাতের অধিকার দিতে হবে’।

এই সমর্থন শুধু মিয়াঁদাদ ও আকরামে সীমাবদ্ধ নয়। ২২ জন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক-যাদের মধ্যে ভারতের কপিল দেব, সুনীল গাভাস্কার এবং ইংল্যান্ডের মাইকেল অ্যাথারটনও রয়েছেন-প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখে ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও এই আবেদনকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান এবং ইমরান খানকে “যে কোনো মানুষের প্রাপ্য মর্যাদা” দেওয়ার আহ্বান জানান। ক্রিকেটের এই নৈতিক সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইমরান খান পাকিস্তানের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক-তিনি জাতীয় গর্বের প্রতীক। তাঁর নিজের ক্রিকেট পরিবার যখন প্রকাশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন সরকারের `রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়ার কৌশলটি দুর্বল হয়ে পড়ে। মিয়াঁদাদের ভাষায়: `পাকিস্তান যা করেছে তার জন্য আমাদের ভাবা উচিত। ঈশ্বর না করুন, যদি জেলে তার কিছু হয়ে যায়, পুরো পাকিস্তান কাঁদবে’।

৫. আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থার চাপ

ইমরান খানের দুই ছেলে কাশিম ও সুলেমান খান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পরিসরে তাদের বাবার মুক্তির জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। ২০২৬ সালের আগস্টে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজের সময় স্কাই স্পোর্টসে তাদের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হয়, যেখানে তারা অভিযোগ করেন যে তাদের বাবাকে কারাগারে খারাপভাবে ট্রিট করা হচ্ছে এবং সুপ্রিম কোর্টের আদেশ উপেক্ষা করা হচ্ছে। এই সাক্ষাৎকার পাকিস্তানে বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সিরিজ বয়কটের কথা ভেবেছিল বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই বিষয়ে সক্রিয়ভাবে রিপোর্ট করছে। বিবিসি, এএফপি, ইএসপিএন, দ্য এ্যাথলেটিক ও স্কাই স্পোর্টস সবাই নিয়মিতভাবে ইমরান খানের পরিস্থিতি কভার করছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং জাতিসংঘের নির্যাতন বিষয়ক বিশেষ রেপোটিয়ার অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডসও ইমরান খানের একাকী বন্দিত্ব এবং চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই আন্তর্জাতিক চাপের তাৎপর্য হলো-এটি সরকারের `অভ্যন্তরীণ বিষয়’ আখ্যা দেওয়ার সুবিধাকে সংকুচিত করছে। শাহবাজ সরকার যতই বলুক এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের চাপ একে ক্রমশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রশ্নে পরিণত করছে।

৬. জোট-সরকারের সীমাবদ্ধতা ও কেন্দ্র-প্রদেশ দ্বন্দ্ব

শাহবাজ শরিফের পিএমএল-এন সরকার পিপিপি-সহ জোট সরকার। এই জোট কাঠামো ইমরান খান প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণকে কঠিন করে তুলছে। আরও বড় চ্যালেঞ্জ হলো কেন্দ্র-প্রদেশ সম্পর্ক। পিটিআই খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সরকার গঠন করেছে, এবং সেই প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি নিজেই লংমার্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী, একজন নির্বাচিত প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী যখন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামেন, তখন তা কেন্দ্র-প্রদেশ সম্পর্কের সাংবিধানিক সংকট তৈরি করে।

মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি লংমার্চ শুরুর আগে এক্স-এ পোস্ট করে নিশ্চিত করেন যে ইমরান খানের সমর্থনে বিক্ষোভ এগিয়ে যাবে। তিনি জানান, বিক্ষোভ খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে শুরু হয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।

সরকারের জন্য সমস্যা হলো, কেন্দ্র যদি আন্দোলন দমন করতে বলে, প্রদেশ তা কার্যকর করবে না। আর কেন্দ্র যদি নিজে বল প্রয়োগ করে, তাহলে সেই বলপ্রয়োগের দায়িত্ব ও পরিণতি কেন্দ্রকেই নিতে হবে। এই কেন্দ্র-প্রদেশ টানাপোড়েন শাহবাজ সরকারের জন্য একটি স্থায়ী কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার খাইবার পাখতুনখোয়ায় সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছে। তবে এই অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে সরকার নিজেই জানেন না কোন কৌশল কার্যকর হবে।

শাহবাজ শরিফের সরকারের জন্য ইমরান খানকে কারাগারে ধরে রাখার প্রশ্নটি এখন আর কেবল `আইনি’ প্রশ্ন নয়-এটি “সম্ভব কি না”র প্রশ্ন। আলোচনায় ব্যর্থতা দেখিয়েছে সরকারের রাজনৈতিক আলোচনার স্পেস সংকুচিত হয়ে এসেছে। জনমতের উর্দ্ধমূখীনতা দেখিয়েছে দমন-পীড়নের খরচ প্রতিদিন বাড়ছে। আইনি বাধার শিথিলতা দেখিয়েছে কারাবাসের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্বের নৈতিক সমর্থন দেখিয়েছে সরকারের `রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়ার কৌশল ভেঙে পড়ছে। আন্তর্জাতিক চাপ দেখিয়েছে এই বিষয়টি আর কেবল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। জোট-সরকারের সীমাবদ্ধতা এবং কেন্দ্র-প্রদেশ দ্বন্দ্ব দেখিয়েছে শাসনক্ষমতা কেন্দ্রীভূত নয়।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: শাহবাজ সরকার ইমরান খানকে কারাগারে ধরে রাখতে `পারবে কি না’ নয়, বরং কতদিন এই সিদ্ধান্ত টিকিয়ে রাখা রাজনৈতিকভাবে সম্ভব হবে। প্রতিদিন যত লোক আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে, প্রতিদিন যত আইনি বাধা শিথিল হচ্ছে, এবং প্রতিদিন যত আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে-এই প্রশ্নের উত্তর ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে: টিকিয়ে রাখা কঠিন। গণতন্ত্রের একটি মৌলিক সত্য হলো, ভোটের ফলাফলকে প্রশাসনিক শক্তি দিয়ে দীর্ঘদিন দমিয়ে রাখা যায় না। ইমরান খানের মুক্তির প্রশ্নে আজকের আন্দোলন সেই সত্যেরই সাম্প্রতিকতম প্রকাশ।

(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই–এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিষয়:ইমরান খান কারাগার মুক্তির দাবি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…