কানাডায় খলিস্তানি শিখ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে গতকাল ভারতীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে কানাডা। যেই মৃত নেতাকে নিয়ে এত কাণ্ড, সেই ভারত-কানাডা সম্পর্কে চিড় ধরানো হরদীপ সিং নিজ্জারের নাম ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সন্ত্রাসীর তালিকায় ছিল। তার মাথার দাম ছিল ১০ লাখ রুপি। কানাডায় তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল ৪টি।
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের পঞ্জাবি অধ্যুষিত সারে অঞ্চলে থাকতেন হরদীপ। বিগত কয়েকবছরে কানাডার ভ্যানকুবারে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে খলিস্তানি বিক্ষোভের নেপথ্যে ছিলেন তিনি। গত জুনে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি শিখ মন্দিরের বাইরে অজ্ঞাত মুখোশধারীদের গুলিতে নিহত হন শিখ সম্প্রদায়ের নেতা হারদ্বীপ সিং নিজ্জার। তাকে ২০ বারেরও বেশি গুলি করা হয়।
কানাডায় মৃত হরদীপের বিরুদ্ধে চারটি মামলা ছিল। একজন হিন্দু পুরোহিতকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রসহ খলিস্তানি যোগের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। গতবছর জুলাইতেই হরদীপের মাথার দাম ১০ লক্ষ রুপি ধার্য করা হয়। জানা যায়, হরদীপ খলিস্তান টাইগার ফোর্সের প্রধান ছিল। ‘শিখস ফর জাস্টিস’ সংগঠনের মতামত প্রচারের দায়িত্ব ছিল হরদীপের টাইগার ফোর্সের ওপর।
ভারতে নিষিদ্ধ ‘শিখস ফর জাস্টিস’ সংগঠনেরই প্রতিনিধি হিসেবে কানাডায় নিযুক্ত ছিলেন হরদীপ। কানাডার শিখদের মধ্যে খলিস্তান ভাগের প্রস্তাবনা পাশ করানোর দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। এদিকে যেই স্থানে হরদীপকে খুন করা হয়েছিল, সেই স্থানেই সম্প্রতি পাশ করানো হয় খলিস্তানপন্থী প্রস্তাবনা। সেই প্রস্তাবনা পাশ করানোর সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ছিলেন ভারতে।
কানাডার ভ্যানকুভারে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে খলিস্তানি বিক্ষোভের আয়োজন করতেন হরদীপ। এদিকে কানাডা ভিত্তিক খলিস্তানি নেতা মনিন্দর বয়েলেরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। মনিন্দর এবং হরদীপের বিরুদ্ধে বিচ্ছিনতাবাদী খলিস্তানি মনোভাব প্রচারের অভিযোগ রয়েছে।








