আন্তর্জাতিক

দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী আতিশি মারলেনা সর্ম্পকে যা জানা গেল

দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী আতিশি মারলেনা প্রার্থনা করছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী আতিশি মারলেনা নির্বাচনী অনুষ্ঠানে প্রার্থনা করছেন।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পর দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন তারই দলের আম আদমি পার্টির (এএপি) আতীশি মারলেনা। আম আদমি পার্টির আইনপ্রণেতাদের এক বৈঠকের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আতিশীর নাম ঘোষণা করেন কেজরিওয়াল নিজেই।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গতকাল (১৭ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার বিকেলে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পদত্যাগের পর দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী অতীশি দায়িত্ব নিয়েছেন। ভারতের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর আতিশীই দেশটির দ্বিতীয় নারী মুখ্যমন্ত্রী।

জন্ম

১৯৮১ সালের ৮ জুন জন্ম নেওয়া আতিশি দিল্লির একটি উচ্চশিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা বিজয় সিং ও মা তৃপ্তা ওয়াহি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার পুরোনাম আতিশি মারলেনা সিং। নামের মধ্যবর্তী অংশ মার্কস এবং লেনিন নামের মিশ্রণ। তাদের মতাদর্শ ও চিন্তাধারা নিজের মধ্যে লালন করেন আতিশি।

শিক্ষা

আতিশি নয়াদিল্লির স্প্রিংডেলস স্কুলে মাধ্যমিক ও স্টিফেন কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনা করেন। ইতিহাসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে ভর্তি হন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি ২০০৩ সালে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৫ সালে রোডস স্কলার হিসেবে শিক্ষাগত গবেষণায় দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর নেন আতিশি।

রাজনীতিতে প্রবেশ

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে আম আদমি পার্টিতে (এএপি) যোগদানের মাধ্যমে আতিশির রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। এরপর থেকেই দলের নীতিনির্ধারণে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। বিশেষত, ভারতে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সময় তার অভিজ্ঞতা থেকে বেশ কিছু নীতি প্রবর্তন করা হয়।

২০১৫ সালে মধ্য প্রদেশের খান্ডোয়া জেলায় জল সত্যাগ্রহের সময় তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যেখানে তিনি প্রতিবাদ ও পরবর্তী আইনি চ্যালেঞ্জের সময় আম আদমি পার্টির নেতা অলোক আগরওয়ালকে সমর্থন করেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে আতিশিকে পূর্ব দিল্লির জন্য দলের ইনচার্জ নিযুক্ত করা হয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তৃতীয় স্থানে থেকে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন।

নির্বাচনে জয়

২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে মনে করা হয়। দক্ষিণ দিল্লির কালকাজি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আতিশি বিজেপি প্রার্থী ধরমবীর সিংকে ১১ হাজার ৪২২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এ জয় তাকে দিল্লি সরকারের মধ্যে একটি বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করে।

মন্ত্রিপরিষদে নিয়োগ

নির্বাচনী সাফল্যের পরে, আতিশিকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে দিল্লি সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০২২-২৩ সময়কালে, তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষা সংস্কারে ভূমিকা

দিল্লির সরকারি স্কুলগুলোতে উল্লেখযোগ্য শিক্ষা সংস্কারের চালিকাশক্তি ছিলেন আতীশি। ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সময় তিনি স্কুলের সুযোগ-সুবিধা পুনর্গঠন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি ছাড়াও ‘উদ্যোক্তা মানসিকতা পাঠ্যক্রম’ এবং ‘হ্যাপিনেস কারিকুলাম’ এর মতো বেশ কয়েকটি উদ্যোগ চালু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

পরিবেশ আইনজীবী

শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ ছাড়াও, আতিশি পরিবেশগত সমস্যাগুলোর জন্যও একজন শক্তিশালী আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি দিল্লিতে নবায়নযোগ্য শক্তি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থায়িত্ব সম্পর্কিত নীতিগুলো সক্রিয়ভাবে প্রচার করেছেন।

বিষয়:দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…