বিনোদন

শাহরুখ খান- দ্য লাস্ট কিং অব সিনেমা

শাহরুখ খান- দ্য লাস্ট কিং অব সিনেমা

শাহরুখ খান। কেউ তাকে ডাকেন বলিউড বাদশাহ, কেউ কিং অব রোমান্স, আবার কেউ বলেন দ্য লাস্ট কিং অব সিনেমা। এই উপাধিগুলো এমনি এমনি আসেনি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা রঙের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি পুরো হিন্দি সিনেমার জগৎকে মাতিয়ে রেখেছেন। চরিত্র নায়কের হোক বা খলনায়কের, নিজের বহুমুখী প্রতিভায় আলো কেড়ে নিয়েছেন সবসময়ই।

প্রেমিক থেকে খলনায়ক, আবার অ্যাকশন হিরো, প্রতিটি রূপেই দর্শককে মুগ্ধ করেছেন শাহরুখ। যুগের সঙ্গে বদলেছে বলিউডের সিনেমা, বদলেছে চরিত্রের ধরনও। কিন্তু তার অভিনয়বৈচিত্র্য থেমে থাকেনি; বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিবার নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।

ক্যারিয়ারজুড়ে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতাও দেখেছেন শাহরুখ। এসেছে একের পর এক সমালোচনা, বক্স অফিসের হতাশা, এমনকি দীর্ঘ বিরতিও। বহুবার হোঁচট খেয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিটি হোঁচটই তাকে পৌঁছে দিয়েছে নতুন কোনো গন্তব্যে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ৬১ বছর পূর্ণ  করে ৬২-তেপা রাখলেন এই বাদশাহ। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অগণিত দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন, পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের স্বীকৃতিও, যা তার অভিনয়ক্ষমতারই প্রমাণ। সেই প্রমাণ নিয়েই তিনি সত্যিকার অর্থে দ্য লাস্ট কিং অব সিনেমায় পরিণত হয়েছেন।

শুরুর দিকে মূলধারার অভিনেতারা নেতিবাচক চরিত্র এড়িয়ে চলতেন, কিন্তু শাহরুখ ছিলেন ব্যতিক্রম। দিল্লির সাধারণ পরিবার থেকে বলিউডে জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না। টেলিভিশনের ‘ফৌজি’ ও ‘সার্কাস’ দিয়ে পরিচিতি পেয়ে ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’য় বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর ‘বাজিগর’, ‘ডর’ ও ‘আনজাম’-এ নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ভেঙে দেন নায়কের চিরাচরিত সংজ্ঞা। দেখিয়ে দেন, খলচরিত্রেও দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নেওয়া সম্ভব।

এখানেই শেষ নয়, কমার্শিয়াল সিনেমার পাশাপাশি বক্স অফিস সাফল্যের কথা না ভেবে অভিনয় করেছেন সামাজিক ব্যতিক্রমধর্মী ভিন্ন গল্পেও।

শাহরুখের অভিনয় দক্ষতা পরখ করতে তার অভিনীত এমন পাঁচটি সিনেমার কথা জেনে নেয়া যায়, যেখানে তিনি চিরচেনা ইমেজের বাইরে গিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। অভিনয়জীবনে প্রচলিত অভিনয়ের ছক ভেঙে তার এই ‘আউট অব দ্য বক্স’ উপস্থিতি ছিলো দর্শকের মনে চিরকাল আলাদা জায়গা করে নেওয়ার মতো।

স্বদেশ (২০০৪)

মোহন ভার্গব (শাহরুখ খান) নাসার সফল বিজ্ঞানী। শৈশবের আয়া কাবেরী আম্মাকে আমেরিকায় নিতে তিনি ভারতের চরানপুর গ্রামে আসেন। সেখানে দারিদ্র্য, জাতিভেদ ও বিদ্যুৎহীনতা দেখে বদলে যান, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়েন এবং শিকড়ের টানে দেশে ফেরেন। শাহরুখের সংযত, নিঃশব্দ অভিনয়ে প্রবাসীর দ্বিধা ও মাটির টান ফুটে ওঠে; সমালোচকদের কাছে এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ।

চাক দে ইন্ডিয়া (২০০৭)

ভারতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক কবির খান (শাহরুখ খান) পেনাল্টি মিসের কারণে দেশদ্রোহীর অপবাদ পান। সাত বছর পর মহিলা হকি দলের কোচ হয়ে আঞ্চলিক বিভেদে বিভক্ত খেলোয়াড়দের ঐক্যবদ্ধ করেন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে তিনি নিজের হারানো সম্মান ফিরে পান। কবির খানের দৃঢ় ব্যক্তিত্ব, আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও চাপা ক্ষোভের অভিনীত চরিত্রটি শাহরুখের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়

ডর (১৯৯৩)

ডর (১৯৯৩) সিনেমায় রাহুল মেহরা(শাহরুখ খান) কিরণের (জুহি চাওলা) প্রতি বিকৃত আসক্তিতে ছায়ার মতো তার পিছু নেয়। নৌবাহিনীর কর্মকর্তা সুনীলের(সানি দেওল) সঙ্গে কিরণের বাগদানে সেই আসক্তি রূপ নেয় উন্মত্ততায়, আর সে জোর করে তাকে নিজের করে পেতে চায়। শাহরুখের খলনায়ক অভিনয়ে তোতলামি, অস্থির চাহনি আর অন্ধ প্রেমের বিভীষিকা দর্শককে স্তব্ধ করেছিল; নেতিবাচক চরিত্রেও তিনি সবচেয়ে প্রশংসিত হন।

বাজিগর (১৯৯৩)

বাজিগর (১৯৯৩) সিনেমায় অজয় শর্মা ওরফে বিকি মালহোত্রা ব্যবসায়ী মদন চোপড়ার ওপর প্রতিশোধ নিতে তার ছোট মেয়ে প্রিয়াকে(কাজল) প্রেমের ফাঁদে জড়ায়। ধীরে ধীরে প্রিয়ার মনে সন্দেহ জাগে, বড় বোন সীমার সঙ্গে প্রেমিকের কী যোগসূত্র, আর তার আসল উদ্দেশ্যই বা কী। অ্যান্টি হিরোর চরিত্রে শাহরুখ খান ঠান্ডা মাথার নিষ্ঠুরতা আর চোখের গভীর অভিব্যক্তিতে গতানুগতিক খলনায়কের ছকটাই ভেঙে দিয়েছিলেন।

আনজাম (১৯৯৪)

আনজাম (১৯৯৪) সিনেমায় বিজয় অগ্নিহোত্রী(শাহরুখ খান) শিবানীকে(মাধুরী দীক্ষিত) ভালোবেসে বারবার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু প্রতিবার প্রত্যাখ্যাত হয়। ধীরে ধীরে তার ভালোবাসা বিকৃত আসক্তিতে রূপ নেয় এবং সে শিবানীর সংসার ও শান্তি কেড়ে নিয়ে জীবন বিষিয়ে তোলে। জেদ আর পাগলামিতে “না” মানতে নারাজ এই প্রেমিকের চরিত্রে শাহরুখ খান ফিল্মফেয়ার সেরা খলনায়ক পুরস্কার জেতেন।

বিষয়:‘ডর’ চাক দে ইন্ডিয়া শাহরুখ সিনেমা স্বদেশ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…