ধানমণ্ডি, শেরেবাংলা নগর ও মোহাম্মদপুরে দীর্ঘদিন ধরে পিকআপ নিয়ে ছিনতাই করছিল একটি চক্র।
গত বুধবার ভোরে ধানমণ্ডি এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় ধানমণ্ডি থানায় একটি মামলা করা হয়। পরে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ধানমণ্ডির রাপা প্লাজার সামনে থেকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মো. আবদুল আউয়াল (৩৫), মো. শফিকুল ইসলাম সাগর (২১) ও মো. সোহেল প্রকাশ ওরফে কানা সোহেল (৩০)। সেসময় তাদের কাছ থেকে ২টি চাপাতি, ১টি লোহার রড ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ১টি হলুদ রঙের পিকআপ গাড়ি জব্দ করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান: গ্রেপ্তারদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ছিনতাই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি সংঘবব্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। এ চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ ধানমণ্ডি, শেরে বাংলা নগর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় পিকআপযোগে ছিনতাই করে আসছিল।
ধানমণ্ডি থানা সূত্রে জানা যায়, জেহাদুল ইসলাম মনি ও তার স্ত্রী মির্জা ফাতিমা জাহান দম্পতি গতকাল বুধবার ভোর আনুমানিক ৩:৫৫ টার দিকে বরগুনা থেকে রাসেল স্কয়ার বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি থেকে নামেন। বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশাযোগে রওনা হয়ে ভোর ৪.১৫ টায় ধানমণ্ডির রোড নং-১৩/এ, বাসা নং-২৩ এর সামনে পৌঁছান।
রিকশা থেকে নামার মুহুর্তে অজ্ঞাতনামা তিনজন ছিনতাইকারী একটি হলুদ রঙয়ের পিকআপ দিয়ে তাদের গতিরোধ করে। তারা ধারালো চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে ভুক্তভোগীর স্ত্রীর ব্যবহৃত ১টি মোবাইল ফোন, ১টি ভ্যানিটি ব্যাগ, ১টি ইবিএল ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও এনআইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। তাদের মারধরে জেহাদুল ইসলাম মনির স্ত্রী শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
ধানমণ্ডি সোসাইটি উল্লেখিত ঘটনাটি পুলিশকে জানালে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ছিনতাইয়ের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে। পরে আজ ভোর ৬:১৫ টায় ধানমন্ডি রাপা প্লাজার সামনে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ভিকটিম জেহাদুল ইসলাম মনির অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার ধানমণ্ডি মডেল থানায় একটি মামলা হয়।








