পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ব্যস্ত বাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন। স্থানীয় জরুরি সেবা বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত জেলার সারাই নওরাং শহরের একটি বাজারে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি রিকশা থেকে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়।
স্থানীয় পুলিশ প্রধান আজমত উল্লাহ জানান, নিহতদের মধ্যে দুইজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও একজন নারী রয়েছেন।
জরুরি সেবা সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা কয়েকজনকে বান্নুর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
টিএইচকিউ হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ ইশাক বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৭ জন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে কয়েকদিন আগেই পাশের বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে বোমা হামলা ও বন্দুকধারীদের আক্রমণে ২১ পুলিশ সদস্য নিহত হন।
ওই হামলার জন্য পাকিস্তান সরকার তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে দায়ি করে। পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত এ গোষ্ঠী আফগান তালেবান সরকারের মিত্র হলেও আলাদা সংগঠন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের হামলা বেড়েছে।
তবে মঙ্গলবার আফগান তালেবান প্রশাসন পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, বান্নুর পুলিশ কেন্দ্রের হামলার পরিকল্পনা আফগানিস্তানে করা হয়েছে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের এমন দাবি ‘ভিত্তিহীন’ এবং তা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপি যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও কাবুল প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না।
আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনাও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সীমান্ত সংঘর্ষে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
গত এপ্রিলের শুরুতে চীন মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে আলোচনা শুরু হলেও সীমান্তে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।








